জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস অ্যাভাস্ট ব্যবহার করুন এখন সম্পূর্ন বাংলা ভাষায়

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালই আছেন। আজ একটি দারুন খুশির খবর দেব। যারা ইন্টারনেট নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তারা জানেন ইন্টারনেটের অনেক জায়গাতেই এখন বাংলা ভাষার প্রচলন শুরু হয়েছে। ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু ইত্যাদি সাইটে বাংলা যুক্ত হয়েছে। সফটওয়্যারে গেলে শুধু মাত্র ওপেনসোর্স কিছু সফটওয়্যারে বাংলা ভাষা যুক্ত আছে। এখন আমাদের জন্য খুশির খবর হল জনপ্রিয় এবং ফ্রি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার অ্যাভাস্ট -এ যুক্ত করা হয়েছে বাংলা ভাষা! এটিই প্রথম এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার যেখানে বাংলা ভাষা যুক্ত করা হলো!

অ্যাভাস্ট ডাউনলোড

avast! Translators Page এ যেতে ছবিতে ক্লিক করুন

বাংলা ট্রান্সলেশনের কাজটি করেছি আমি। আসলে কাকতালীয় ভাবে অ্যাভাস্ট ট্রান্সলেশন করার সুযোগটি পেয়ে যাই এবং কাজটি করেই ফেললাম 🙂 ।

যাই হোক, যেহেতু আমি ট্রান্সলেশন করেছি সেহেতু অ্যাভাস্টের বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাকটিতে বাংলাদেশী বাংলাকেই প্রধান্য দিয়েছি। অনেকেই বাংলা ইন্টারফেস ব্যবহার করতে চান না “ভুতুরে বাংলা” -র জন্য। যে বাংলা লেখা পড়ে সহজে বুঝা যায়না তাকেই “ভুতুরে বাংলা” নাম দিয়েছি আমি 😉 । বিশেষ করে ভারতীয় বাংলাতে প্রচলিত বাংলা স্টাইল আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। অ্যাভাস্টের বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাকে “ভুতুরে বাংলা” বাদ দিয়েছি। আশা করি ইংরেজীর চেয়ে বাংলাকে কঠিন না লেগে সহজই লাগবে 🙂 । চলুন বাংলা ভাষা যুক্ত অ্যাভাস্ট এর কয়েকটি স্ক্রিনসট দেখে নিইঃ

অ্যাভাস্টের প্রধান ইন্টারফেস

অ্যাভাস্টের রিয়েল টাইম শিল্ড ইন্টারফেস

অ্যাভাস্টের আপডেট ইন্টারফেস

অটো-আপডেট নটিফিকেশন

ভাইরাস সনাক্ত নটিফিকেশন

নতুন ইন্টারনেট সংযোগের পর ফায়ারওয়াল সেটিং ইন্টারফেস

সয়ংক্রিয় ফায়ারওয়াল সেটিং নটিফিকেশন

এপ্লিকেশনের জন্য সয়ংক্রিয় ফায়ারওয়াল সেটিং নটিফিকেশন

ভাইরাস স্ক্যান ফলাফল ইন্টারফেস

তথ্য ইন্টারফেস

কেমন লাগল? আশা করি ভালই লেগেছে 🙂

চাইলে এখনই ডাউনলোড করে রাখতে পারেন অ্যাভাস্ট ফ্রি এন্টিভাইরাসঃ

অ্যাভাস্ট ডাউনলোড

চলুন এবার দেখা যাক কিভাবে অ্যাভাস্টে বাংলা ভাষা  সক্রিয় করবেন। অ্যাভাস্ট এর বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক ডাউনলোড করার জন্য আপনার ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যই চালু থাকতে হবে। এটি মাত্র ১-২ মেগাবাইট ব্যান্ডউইথ খরচ করবে।

অ্যাভাষ্টে বাংলা ভাষা সক্রিয় করার জন্য সর্বনিম্ন ভার্সন হতে হবেঃ 7.0.1451

অ্যাভাস্টে বাংলা ভাষা সক্রিয় করাঃ

বাংলা ভাষা সক্রিয় করার জন্য ডেস্কটপ থেকে অ্যাভাস্টের সর্টকট এ ক্লিক করে অথবা অ্যাভাস্টের ট্রে আইকনে ক্লিক করে অ্যাভাস্ট ইন্টারফেস চালু করুন। এবার অ্যাভাস্ট ইন্টারফেসের এর ডান কোনা থেকে SETTINGS এ ক্লিক করুন।

এবার বাম থেকে Language এ ক্লিক করুন এবং তারপর ডান থেকে Install additional languages বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে নিচের মত যে উইন্ডো আসবে সেখান থেকে “বাংলা” কে টিক চিহ্ন দিয়ে OK তে ক্লিক করুন।

তারপর ডাউনলোড এবং ইনস্টল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। (এ সময় অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে।)

নিচের স্ক্রিনটি আসলে বুঝবেন কাজ সম্পূর্ন হয়েছে। এবার Finish বাটনে ক্লিক করে SETTINGS উইন্ডোতে তে ফিরে যান।

এখন SETTINGS উইন্ডোতে Languages অংশ থেকে “বাংলা” সিলেক্ট করে OK বাটনে ক্লিক করে বের হয়ে আসুন। তাহলেই দেখবেন বাংলা ভাষা সক্রিয় হয়ে গেছে।

অ্যাভাস্ট ডাউনলোড

বাংলা ফন্টের আকার নিয়ে সমস্যা?

আমি উপরের স্ক্রিনসট গুলো উইন্ডোজ ৮ এ নিয়েছি। উইন্ডোজ ৮ এ বাংলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে Nirmala UI ফন্ট।

Nirmala UI: বাংলার ভাষার জন্য উইন্ডোজ ৮ পর্যন্ত যত ফন্ট মাইক্রোসফট তৈরি করেছে তার মধ্যে Nirmala UI ফন্টটিই বেষ্ট বলা যায়। এটি কেন বেষ্ট তা উপরের চিত্র গুলোতে বাংলা লেখা দেখেই আশা করি বুঝতে পারছেন। এটি বাংলার জন্য উইন্ডোজ ৮ এর ডিফল্ট ফন্ট হিসেবে থাকে।

কিন্তু উইন্ডোজ ৮ এর আগের ভার্সন গুলোতে বাংলা ভাষার জন্য দেয়া হয়েছিল Vrinda ফন্ট, যা সাধারন ফন্ট থেকে খুব ছোট এবং ব্যবহার করার উপযোগী নয় বললেই চলে। তার বিকল্প হিসেবে সিয়াম রূপালী ফন্টটি অভ্র দিয়ে ঠিক করা যায়। কিন্তু তা ভাল কাজ করে শুধু মাত্র ওয়েব পেজে। আপনি ফোল্ডারে বাংলা লিখুন বা কোন সফটওয়্যারের বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক চালু করলে তা তেমন পরিষ্কার দেখাতে পারবেন না!

তাহলে কি এখন অ্যাভাস্ট বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক শুধু উইন্ডোজ ৮ এর ব্যাবহার কারীরাই চালাবে!

না! যেখানে সমস্যা আছে সেখানে নিশ্চয় সমাধানও তো আছে! আমি সমস্যাটির একটি সিম্পল এবং ১০০% কার্যকরী একটি সমাধান দিচ্ছি। আমরা উইন্ডোজ ৮ এর নির্মলা ইউ আই ফন্টটিকে উইন্ডোজ এক্সপি, ভিস্তা এবং সেভেনে এর ডিফল্ট ফন্ট হিসেবে সেট করে দেব।

কাজটি করার জন্য Nirmala UI ফন্ট এবং Font Fixer সফটটি লাগবে।

ফন্টঃ

  • প্রথমে এখান থেকে Nirmala UI ফন্টটির জিপ ফাইলটি ডাউনলোড করুন।
  • এবার স্টার্ট মেনু থেকে Run এক ক্লিক করুন বা Windows Key + R চাপ দিয়ে Run উইন্ডো চালু করে Fonts লিখে Enter চাপ দিয়ে ফন্ট ফোল্ডার চালু করুন।
  • তারপর “Nirmala UI (Win8 RP).zip” জিপ ফাইলটি এক্সট্রাক্ট করুন, তাহলে Nirmala.ttf এবং NirmalaB.ttf নামের দুটি ফাইল দেখতে পাবেন। ফাইল দুটিকে Fonts ফোল্ডারে কপি-পেস্ট করে রাখুন।

Font Fixer:

এবার আপনার Font Fixer সফটওয়্যারটি লাগবে। এটি অভ্রের সাথেই দেয়া থাকে। তাই যাদের অভ্র আছে তাদের ডাউনলোড করা লাগবে না। যাদের নেই তারা এখান থেকে ছোট সফটটি ডাউনলোড করে নিন। ডাউনলোড করে Font Fixer টি চালু করুন। আর যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা C ড্রাইভ অথবা আপনার উইন্ডোজ যে ড্রাইভে সেটআপ করেছেন সে ড্রাইভে (যাকে সিস্টেম ড্রাইভ বলে) গিয়ে Program Files (৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম হলে Program Files (x86)) থেকে Avro keyboard ফোল্ডারে গিয়ে Font Fixer.exe এ ডাবল ক্লিক করে Font Fixer চালু করুন।

এবার Font FixerFont Name বক্সে লিখুন “Nirmala UI” এবং তারপর Fix it বাটনে ক্লিক করুন। [বানান ঠিক করে লিখুন, নামের আগে পরে কোন স্পেস হবে না।]

এবার Restart Now বাটনে ক্লিক করে উইন্ডোজ রিস্টার্ট করুন। তাহলেই কাজ শেষ।

এখন আপনি উইন্ডোজ ৮ এর মতই পরিষ্কার বাংলা লিখা দেখতে পাবেন। [আমি নিজে XP এবং Windows 7 এ টেস্ট করে দেখেছি। সুতরাং কাজ করবেই। তারপরও সমস্যা হলে আমি তো আছিই 🙂 ]

উপরের কাজটি করে আপনি উইন্ডোজ Xp, Vista এবং 7 এ সব যায়গাতেই পরিষ্কার বাংলা দেখতে পাবেন। যেমনঃ

  • আপনি ফোল্ডার এবং ফাইলের নাম বাংলাতে লিখলে তা পরিষ্কার ভাবে দেখতে পাবেন।… ইত্যাদি।

বাংলা নাম যুক্ত দুটি ফাইল

অ্যাভাস্ট ডাউনলোড

অ্যাভাস্টের বাংলা ট্রান্সলেশন নিয়ে কোন সমস্যা বা মন্তব্য বা পরামর্শ থাকলে তা এখানে কমেন্টে বলতে পারেন, অথবা এখানে বলতে পারে, যাতে পরবর্তী ভার্সনে ট্রান্সলেশন আপডেট করার সময় সেগুলো ঠিক করতে পারি।

আর উপরের কাজ গুলো করতে কোন সমস্যা হলে কমেন্ট বক্স সব সময় খোলা। 🙂

পোষ্টটি শেয়ার করে খবরটি সবাইকে জানিয়ে দিতে ভুলবেন না যেন!

আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন।

দেশের প্রথম, সব চেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ সুবিধা যুক্ত অফলাইন ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা অভিধান তৈরি করা হচ্ছে – আপনার মতামত দিন

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

বিঃ দ্রঃ স্বাধীনের নতুন ভার্সন বের করা হয়েছে। নতুন ভার্সন সম্পর্কে জানতে এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

সবাই কে সালাম জানিয়ে আজকের পোষ্ট শুরু করছি। আজ আমার নতুন প্রোজেক্ট সম্পর্কে লিখব। এটি আমার চতুর্থ প্রোজেক্ট এবং অন্য গুলোর চেয়ে সবচেয়ে বড় এবং চ্যালেন্জ পূর্ন। চ্যালেন্জ পূর্ন কেন তা নিচে পড়লেই জানবেন। টাইটেল থেকে এতক্ষনে নিশ্চই বুঝে গেলেছ এবারের প্রোজেক্ট হচ্ছে বাংলা অভিধান।

এত কিছু থাকতে বাংলা অভিধান কেন?

বাংলা ডিকশনারী তৈরি করার পেছেনে অনেক কারন আছে। যেমনঃ বর্তমানে যত গুলো অফলাইন ডিকশনারী আছে সেগুলোতে শব্দের অভাব, একেকটাতে এককেক সুবিধা- কোনটাতে সার্চ থাকলে উচ্চারন নেই, উচ্চারন থাকলে শব্দ নেই, শব্দ থাকলে সার্চ সিস্টেম ঠিক নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর আমার জানা মতে ২০০৫ সালের পর আর কোন ডিকশনারী তৈরি করা হয়নি এবং জানামতে এখন পর্যন্ত ইউনিকোড সাপোর্ট যুক্ত ফ্রি কোন ডিকশনারী বের হয়নি। আমি এখানে ডিকশনারি সফটওয়্যার অর্থাৎ অফলাইন ডিকশনারির কথা বলছি। কারন অনলাইনে ইউনিকোড যুক্ত অনেক গুলো ডিকশনারি আছে।

এবার দেখা যাক ২০১১ পর্যন্ত প্রচলিত সব ডিকশনারি সম্পর্কে কিছু তথ্য। এখানে অফলাইন ও অনলাইন উভয় ডিকশনারি দেয়া আছে।

অফলাইন বাংলা অভিধান সমূহঃ [ওয়ার্ড সংখ্যা (প্রায়), ডাউনলোড লিঙ্ক, কম্প্রেস্ড করা সাইজ(প্রায়)]

  1. Bangla Dictionary v3 by Wali [18366, ডাউনলোড, ২.৫০ মেগাবাইট]
  2. Quick Dictionary 2.1.7 [20962, ডাউনলোড , (আমার কাছে কুইক ডিকশনারির যে কপি আছে তার সাইজ ১০৬ মেগাবাইট; তবে আমি এর যে লিঙ্ক পাইছি তার সাইজ ১২৮ মেগাবাইট। এটা অন্য কোন ডিকশনারি হলে আমার কিন্তু দোষ দিবেন না 🙂 ]
  3. Shoshi English to Bangla Dictionary 1.2 [21251, ডাউনলোড , ৮৯ মেগাবাইট]
  4. Technosys Bangla Dictionary 1.0.0 [16970 – শুধু শব্দার্থ; 8664 – উচ্চারন + পদ সহ, ডাউনলোড , ৩৭ মেগাবাইট]
  5. Systech Dictionary 1.0 [60,000+ Bengali and 25,000+ English Word – আমি নিশ্চিত না, তবে তাদের সাইটে এটাই লেখা আছে, ডাউনলোড,  ১৩ মেগাবাইট]
  6. Quick Dictionary XP [আমি নিজে ব্যবহার করে দেখিনি তাই শব্দ সংখ্যা বলতে পারছি না, ডাউনলোড (Pass: doridro.com), ১০৬ মেগাবাইট]

আর যদি টাকা থাকে তাহলে এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন- http://www.lingvosoft.com/Bengali-items/

অনলাইন বাংলা ডিকশনারী সমূহঃ

  1. অনলাইন বাংলা অভিধান – সিসটেক (http://www.bangladict.org)
  2. অভিধান – অংকুর (http://www.bengalinux.org/english-to-bengali-dictionary/)
  3. সংসদ বাংলা অভিধান (http://dsal.uchicago.edu/dictionaries/biswas-bangala/ or http://dsal.uchicago.edu/dictionaries/biswas-bengali/)
  4. অ্যারে বাংলা ডিকশনারি (http://ovidhan.org or http://ovidhan.org/bangla.php)
  5. বাংলা অভিধান – এভারগ্রিনবাংলা.কম (http://www.bangladictionary.org/)
  6. বাংলা ডিকশনারী – বিডি ওয়েব গাইড.কম (http://www.bdwebguide.com or http://www.banglacode.com/Bengali-English/index.php)
  7. বিডিওয়ার্ড ডিকশনারী – (http://www.bdword.com/)
  8. উইকি অভিধান (http://bn.wiktionary.org)
  9. ভার্চুলাম বাংলাদেশ ডিকশনারি (http://www.virtualbangladesh.com)
  10. বাঙ্গালি ডিকশনারি (http://www.bengali-dictionary.com)

আরো কিছু অনলাইন বাংলা ডিকশনারী থাকতে পারে। আমি খোজাখুজি করে এগুলোই পেয়েছি।

এখনে আপনাদের ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়ার পিছনে কারন হল আপনারা এগুলো ব্যবহার করে দেখুন এগুলোতে কি নেই যা আপনার প্রয়োজন এবং আমাকে তা জানান। আপনাদের ফিডব্যাকই আমার নতুন প্রোজেক্টকে হয়তো অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এবার প্রজেক্টের ভিতরের কিছু কথা বলিঃ

আমরা ডিকশনারির জন্য এখন পর্যন্ত ‘বাংলা একাডেমির ইংলিশ-বাংলা ডিকশরারি (সেকেন্ড এডিশন)’ সিলেক্টে রেখেছি। আমি অনেকের মতামত নিয়ে এটার প্রতিই বেশী ভোট পেয়েছি।

এতে কি কি শুবিধা থাকতে পারে?

আপনারা আশা করতে পারেন যে এতে উপরের ডিকশরারি গুলোর সব সুবিধা গুলো থাকবে। কিন্তু আরো কি কি থাকতে পারে তা এখন সম্পূর্ন আপনাদের উপর নির্ভর করছে।

ও ভুলেই গেছি, আমার ডিকশনারির নামই তো এখনো বলিনি। নতুন এ ডিকশনারির নাম হচ্ছে স্বাধীন বাংলা অভিধান।

আজ আমি আপনাদের মাঝে এর আলফা ভার্সন ছেড়ে দেব। তবে এতে যে ডাটাবেজ থাকছে তা সিসটেক ডিকশনারি থেকে ধার করা। উপরের অফলাইনের ৫ নাম্বার ডিকশানারিটা। এখন আপনাদের সারা দেয়ার উপর নির্ভর করছে এর ডাটাবেজের কাজ শুরু করা হবে কি হবে না। কারন, আমি প্রথমেই কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রচলিত সব ডিকশনারির লিঙ্ক সহ দিয়েছি। যাতে আপনারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আর সেগুলো ব্যবহার করে যদি আপনারা সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে তো নতুন বানানোর প্রশ্নই আসে না। আমার জানা মতে সর্ব শেষ অফলাইন ডিকশনারি ২০০৫ এ তৈরি। তারপর আর কোন ডিকশরারি তৈরি হয়নি। এখন আমার মনে হয়েছে ২০১২ তে এসে আসলেই নতুন একটি ডিকশনারি প্রয়োজন। তাই আমি ডিকশনারির কাজ হাতে নিয়েছি। আমি চাচ্ছি এমন একটি ডিকশনারি বানাতে যা বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আর তার জন্য প্রয়োজন আপনাদের সাজেশন + ফিডব্যাক।

কি কি থাকছে আলফা ভার্সনে?

আলফা ভার্সনে ইংলিশ এবং বাংলা সার্চের সুবিধা থাকছে। সার্চ করার সাথে সাথে চাইলে যে কোন শব্দের উচ্চারনও শুনতে পারবেন। সাথে থাকছে সার্চ এবং উচ্চারন শুনার সুবিধা সহ ১০০০+ কমন এবং কম্পিউটার বেজড অ্যাব্রিভিয়েশন। সাইন্সের ছাত্রদের জন্য উচ্চারন সহ গ্রিক লেটার টেবল যুক্ত আছে এতে। বাংলা সার্চ করার জন্য অভ্র বা বিজয় কোনটাই লাগবে না। ইউনিবিজয় ইন্ট্রিগ্রেটেড মানে ইউনিবিজয় কিবোর্ড যুক্ত করা আছে। তবে যারা অভ্র বা বিজয় দিয়ে লেখেন তারাও এতে বাংলা লিখতে পারবেন কোন সমস্যা ছাড়াই (অবশ্যই ইউনিকোড বাংলা)। [বিঃদ্রঃ উইন্ডোজ এক্সপিতে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় অভ্র দিয়ে বাংলা লিখতে সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যা দুর করার জন্য অভিধান চালু করে সেটিং এ ক্লিক করে অভ্র সম্পূর্ন বন্ধ করে ‘অভ্র সাপোর্ট চালু করুন’ বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে অভ্র দিয়ে নিশ্চিন্তে বাংলা লিখতে পারবেন]

এর ইন্টারফেস সম্পূর্ন বাংলায়। এর মেইন উইন্ডো স্ক্রিনশন নিচে দেয়া হলঃ

এতে আপনি উচ্চারন শুনার স্পিডও ঠিক করতে পারবেন সেটিং উইন্ডো থেকে।

এতে এখন পর্যন্ত যে ইউনিক সুবিধাটি যুক্ত করা হয়েছে তা হল কুইক সার্চ বা লাইট মোড বা বলতে পারেন অভিধানের ক্ষুদ্র রূপ।

এটি হচ্ছে একটি ছোট উইন্ডো; যেখান থেকে দ্রুত যে কোন শব্দ সার্চ করা যাবে। এতে হট-কী যুক্ত করা হয়েছে; ফলে আপনি হট-কী চাপ দিয়ে একে যখন ইচ্ছা আনতে এবং হাইড করতে পারবেন। হট-কীটি হলঃ Ctrl+F12. অভ্রের সাথে মিলিয়েই এটি রাখা হয়েছে। এর স্ক্রিন সট না হয় নাই দিলাম ডাউনলোড করুন, তাহলেই দেখতে পাবেন। (একটু লোভ দেখেচ্ছি আর কি ;))

এটি সিস্টেম ট্রেতে মিনিমাইজ করে রাখারও সুবিধা দেয়া হয়েছে। উপরের হট-কী সুবিধাটি সব সময় পেতে ডিকশনারিটি চালু করে তাকে মিনিমাইজ করে রাখতে পারেন। তাহলে যখনই প্রয়োজন হবে শুধু হট-কী চাপ দিবেন তাহলেই লাইট মোড চালু হবে।

লাইট মোডের আরেকটি ভয়ংকর সুবিধা হল এটি সয়ংক্রিয় ক্লিপবোর্ড থেকে শব্দ নিয়ে তার অর্থ বের করে দেবে। বুঝলেন না! ধরুন আপনি ওয়েব সাইট ব্রাউজ করছেন। হঠাৎ কোন একটি নতুন ইংরেজী শব্দ পেলেন, তখন Ctrl+F12 চাপ দিন তাহলে লাইট মোড চালু হবে। এবার অজানা শব্দটি সিলেক্ট করে কপি ( Ctrl + C) করুন। এবার ছোট উইন্ডোটিতে ক্লিক করুন। দেখুন সেখানে সয়ংক্রিয় আপনার কপি করা শব্দটি সার্চ বক্সে দেখা যাচ্ছে এবং তার অর্থ বা তার কাছাকাছি শব্দটির এবং তার অর্থ দেখাচ্ছে! এ মুহুর্তে উচ্চারন লাগবে! Space কী চাপ দিন; তাহলেই শুনতে পাবেন উচ্চারন।

এর সাথে স্বাধীন প্যাড নামে একটি অপশন যোগ করা হয়েছে; যাতে আপনি অভ্র বা বিজয় ছাড়াও বাংলা লিখতে পারবেন।

ট্রে আইকনে রাইট ক্লিক করেও সব সুবিধা চালু করতে পারবেন।

এতে Always on top অথ্যাৎ অভিধানের উইন্ডোকে সব উইন্ডোর উপরে রাখার সুবিধা দেয়া আছে।

আর আশা করি এখন এর ইউজার গাইড লাগবে না। কোন কিছু না বুঝলে সেটার উপর মাউস রাখলেই তার বর্ননা নিচে দেখতে পাবেন।

স্বাধীন বাংলা অভিধান চালাতে উইন্ডোজ এক্সপির জন্য ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ২ (Dot Net Framework 2) লাগবে। তবে উইন্ডোজ সেভেনে তা লাগবে না। কারন উইন্ডোজ সেভেন-এ ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক ৩.৫ পর্যন্ত দেয়াই থাকে। ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ২ এর ডাউনলোড লিঙ্কঃ ডাউনলোড

ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ডাউনলোড

স্বাধীন বাংলা অভিধান মোটামুটি এ সুবিধা গুলোই এখন পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে। আর কি কি আছে তা নিজেই ডাউনলোড করে ট্রাই করে দেখুন।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ

মিডিয়া ফায়ার লিঙ্কঃ ডাউনলোড

সাইজঃ ৮ মেগাবাইট

এখন আপনাদের সহযোগীতা পেলে আশা করছি ২১শে ফেব্রুয়ারীতে এর বেটা ভার্সন ছাড়ব। তার মাঝখানে মাঝখানে টেস্টের জন্য আলফা-১, আলফা-২ ইত্যাদিও বের হতে পারে। এসবের খবর পেতে আইডব্লিউ অফিশিয়াল সাইট iwproducts.wordpress.com imaginativeworld.org এ গিয়ে ডান পাশে ‘ই-মেইরের মাধ্যমে আপডেট ও খবর’ অংশে আপনার ই-মেইল দিয়ে ‘Sign Me’ বাটনে ক্লিক করুন। এছাড়া আইডব্লিউ- এর ফেসবুক ফ্যান পেজ লাইক এবং টুইটার ফ্যানপেজ ফলো করতে পারেন।

আইডব্লিউ এর- ফেসবুক ফ্যানপেজঃ www.facebook.com/Imaginative.World.BD

আইডব্লিউ এর- টুইটার ফ্যানপেজঃ twitter.com/IW_Shohag

আর স্বাধীন বাংলা অভিধান সম্পর্কে মন্তব্য এখানেও দিতে পারেন; আবার চাইলে আলফা ভার্সনের অফিশিয়াল পোষ্ট ( এখানে ) এও আপনার মন্তব্য দিতে পারেন। তবে অফিশিয়াল পেজে দিলে ভাল হয়।

আপনারা আমাকে যে যে ভাবে সাহায্য করতে পারেনঃ

  •  স্বাধীন বাংলা অভিধান সম্পর্কে আপনাদের যে কোন ধরনের মতামত দিয়ে।
  • এটির বাগ খুজে বের করে।
  • আর সবচেয়ে সহজে এবং বড় যে কাজটা করতে পারেন সেটা হল স্বাধীন বাংলা অভিধান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনারাই এটা করতে পারেন খুব সহযে।

এছাড়া আর অন্য কোন ভাবে আপনি আমাদের সাহায্য করতে পারলে সবসময় স্বাগতম।

শেষ কথা

ডিকশনারি নিয়ে ঘাটা ঘাটি করে যা দেখলাম প্রথম অফলাইন ডিকশনারি বোধয় টেকনোসিস ডিকশনারি। যা ১৯৯৯ এর দিকে বের হয়েছে। তারপর আরো ৫-৬ টি ডিকশনারি বের হয়েছে। অন্য দেশের কথা বলতে পারব না তবে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে যে দেশের প্রতি টান ভালবাসা যাই বলা হোক আছে তা ডিকশনারি নিয়ে ঘাটা ঘাটি করেই বুঝতে পেরেছি। মানুষের মধ্যে যদি দেশের প্রতি টান নাই থাকত তাহলে কেন ১৯৯৯ থেকে আমাদের দেশে কম্পিউটার ভিত্তিক ডিকশনারি তৈরি শুরু হয়; আর তারা তা নিয়ে ব্যবসাও করেনি সরাসরি ফ্রি হিসেবেই ছেড়ে দিয়েছে! বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের জীবন দেয়া আসলেই বৃথা যায়নি…

আজ এ পর্যন্ত রাখি। উপরের লেখাটি আমার নিজের জ্ঞান থেকে লেখা; সেখানে কোন তথ্য ভুল থাকলে তার জন্য আমি দুখিত; কোন ভুল পেলে কমেন্টে বলতে পারেন। ডিকশনারি বানাতে গেলে প্রোগ্রামিংয়ের চেয়ে কঠিন হচ্ছে ডাটাএন্ট্রি। এটির জন্যই এটাকে চ্যালেজ্ঞিং বলছি শুরুতে। এখন আপনাদের ফিডব্যাক এবং সাপোর্টই পারে আমি এবং আমার গ্রুপকে সাহস দিতে; এবং এ প্রোজেক্টে সব বাধা ভেঙ্গে এগিয়ে নিতে। আশা করি আপনাদের সম্পূর্ন সাপোর্ট পাব। আর ২১শে ফ্রেব্রুয়ারীতে বেটা ভার্সন বের করতে পারব; ইনশাল্লাহ…

-==========-
Md. Mahmudul Hasan (Shohag)
CEO of Imaginative World
Email: shohag_iw@yahoo.com

বিঃদ্রঃ আপনার যদি প্রোজেক্টটি ভাল লাগে তাহলে নিজ দায়িত্ব যে কোন ব্লগ বা ফোরামে লেখাটি পোষ্ট করতে পারবেন।

বিঃ দ্রঃ স্বাধীনের নতুন ভার্সন বের করা হয়েছে। নতুন ভার্সন সম্পর্কে জানতে এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ফায়ারফক্স (Firefox) এবং থান্ডারবার্ড (Thunderbird) এর যে কোন ভার্সনে অজীবনের জন্য বাংলা সমস্যার সমাধান

আজ একটি মারাত্তক সমস্যার সহজ একটি সমাধান দেব। আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় বেশী অসুবিধায় পড়ি বাংলা নিয়ে। যারা ইংলিশ নিয়ে ঘাটা ঘাটি করেন তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু আমার মত বাংলা প্রেমিকদের বাংলার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়। কিছু ছোটখাট ইতিহাস বলে আজকের পোষ্টটা শুরু করি।

ফায়ারফক্স ও থান্ডারবার্ডে ইউনিকোড যোগ হওয়ার পর বাংলা সমস্যা হলে শুধু অভ্র ইনস্টল করলেই ঠিক হয়ে যেত। পরে মজিলার নতুন ভার্সন ৪ বের করার পর থেকে আবার বাংলা নিয়ে সমস্যা তৈরি হল। দেখা গেল ওয়েব পেজে বাংলা দেখা গেলেও টাইটেল বারে ভাল করে বাংলা দেখা যেত না বা এখন নতুন ভার্সন গুলোতেও যায় না।

ফায়ারফক্সের অডঅনেও এখন বাংলা সমস্যা করে। যেমনঃ Echofon

আর থান্ডারবার্ডের নতুন ভার্সনে তো কোন ভাবেই ঠিক করে বাংলা আসে না।

তখন রাগ করে গেলাম উইনন্ডোজ সেভেনে। সেখানে বাংলাতে কোন সমস্যা হল না। কিন্তু সমস্যা হল এক্সপি থেকে উইন্ডোজ সেভেন ধির গতিতে কাজ করে। তাই বাধ্য হয়ে আবার এক্সপিতে ফিরে এলাম। এবার তো অবস্থা খারাপ, বাংলা সমস্যা দুরকরতে চাইলে স্পিডে কাজ করতে পারব না আবার স্পিডে কাজ করলে বাংলা সমস্যা নিয়েই থাকতে হবে 😦

এরকম জীবন-মরন অবস্থায় সামান্য গবেষনা করে একটি সমাধান বের করলাম। এটি ১০০% কার্যকর। আজ এ পদ্ধতিটিই আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে হলে আপনার কম্পিউটারে অভ্র নতুন ভার্সন ইনস্টল থাকতে হবে। অভ্র যদি আপনার ইনস্টল করা না থাকে তাহলে এখান থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করে ফেলুন।

এবার দেখা যাক পদ্ধতিটা কি! পদ্ধতিটা খুব সহজ। শুধু ফায়ারফক্স এবং থান্ডারবার্ডের কিছু ইনসাইড সেটিং পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে কাজ শুরু করা যাক।

অভ্র ইন্সটল করে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে নিন। তারপর ফায়ারফক্স চালু করুন। আমি এখানে ফায়ারফক্স ৬ এর ছবি দিয়েছি। এর অন্য ভার্সনেও একই ভাবে এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করা যাবে।

ফায়ারফক্স চালু হলে নতুন একটি ট্যাব চালু করুন এবং অ্যাড্রেস বারে লিখুন about:config এবং লিখে Enter দিন।

তাহলে যে পেজ আসবে সেখান থেকে “I’ll be careful, I Promise!” বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনার সামনে ফায়ারফক্সের সব সেটিংয়ের একটি তালিকা চলে আসবে। এবার Filter বক্সে লিখুন beng

তাহলে দেখবেন আপনার সামনে beng যুক্ত আছে এরকম কিছু সেটিংয়ের লিস্ট দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে ছয়টি সেটিং পরিবর্তন করতে হবে। প্রথমে font.name-list.monospace.x-beng লেখাটি খুজে বের করে এর উপর ডাবল ক্লিক করুন। যে ইনপুট বক্সটি আসবে সেখানে লিখুন Siyam Rupali এবং লিখে OK বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর এর পরের পাচটি সেটিং ও ডাবল ক্লিক করে Siyam Rupali লিখে পূরণ করুন।

সাবধানতার জন্য আমি নিচে ছবির সাথে ছয়টি সেটিংসের সবকটির নামও নিচে লিখে দিলাম।

font.name-list.monospace.x-beng
font.name-list.sans-serif.x-beng
font.name-list.serif.x-beng
font.name.monospace.x-beng
font.name.sans-serif.x-beng
font.name.serif.x-beng

সবগুলো সেটিং করা হয়ে গেলে ফায়ারফক্স একবার রিস্টার্ট করুন। তারপর দেখুন ঝকঝকে বাংলা 🙂

এবার আসা যাক থান্ডারবার্ডে। আমরা তো সহজেই ফায়ারফক্সের ইনসাইড সেটিং অ্যাড্রেসবারের মাধ্যমে বের করলাম। এবার বলুন তো থান্ডারবার্ডে তো অ্যাড্রেসবার নেই! এবার কি করবেন?

আমিও এ চিন্ততে পড়েছিলাম 🙂 কিন্তু পরে মনে পড়লে ‘সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাকা করতে হয়’ 🙂

তাই এবার আমরা আঙ্গুল বাকা করে লুকনো সেটিং বের করব 🙂 আপনাদের আঙ্গুল বাকাতে হবে না, ছোট একটি কাজ করতে হবে শুধু 🙂

প্রথমে থান্ডারবার্ড চালু করুন। তারপর Tools মেনু থেকে Options এ ক্লিক করুন। তারপর General ট্যাব থেকে “When Thunderbird launches, show the Start Page in the message area” তে টিক চিহ্ন দিন এবং Location বক্সে লিখুন About:config এবং লিখে OK বাটনে ক্লিক করুন। এবং থান্ডারবার্ড রিস্টার্ট করুন।

তাহলে দেখতে পাবেন থান্ডারবার্ডে নিচের দিকে ফায়ারফক্সে দেখা সেই চেনা মুখ 🙂 এবার আগের মতই একই কাজ করুন। একই জিনিস আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না, তাই আমি নিচে শুধু চিত্র গুলো দিলাম। সমস্যা হলে উপরে আরেকবার চোখ বুলিয়ে আসুন।

সেটিংগুলো ঠিক করা হয়ে গেলে আবার Tools থেকে Options এ ক্লিক করে General ট্যাব থেকে “When Thunderbird launches, show the Start Page in the message area” থেকে টিক উঠিয়ে OK দিয়ে থান্ডারবার্ড রিস্টার্ট করুন।

তারপর থান্ডারবার্ডেও দেখুন ঝকঝকে বাংলা 🙂

আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি পোষ্টটি সহজ করে লিখার জন্য। তারপরও বুঝতে কোন সমস্যা হলে বা অন্য কোন সমস্যা হলে কমেন্টে বলবেন। আজ এ পর্যন্তই।

ধন্যবাদ।

আপডেটঃ

নিচের কোন ফন্টটি আপনার ভালো লাগছে দেখুন তোঃ

সিয়াম রুপালী – ফন্ট | Siyam Rupali – Font

নির্মালা ইউআই – ফন্ট | Nirmala UI – Font

যদি সিয়াম রুপালী ফন্ট ভাল লাগে তাহলে উপরের দেয়া নিয়ম অনুসরণ করলেই হবে।
আর যদি নির্মালা ইউআই ফন্টটা ভাল লাগো তাহলে নিচের কাজ গুলো উপরের কাজ গুলোর সাথে অতিরিক্ত করুনঃ

প্রথমে নিচের লিঙ্ক থেকে “Nirmala UI (Win8 Full).zip” ফাইলটা ডাউনলোড করে এক্সট্রাক্ট করে ফন্ট ফাইল দুটোC:” বা “আপনার সিস্টেম ড্রাইভ\Windows\Fonts” ফোল্ডারে রাখুন।

http://www.mediafire.com/?q1cyc15lby311bb

দ্রষ্টব্যঃ যারা উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করছেন তাদের ফন্টটা ডাউনলোড করতে হবে না। ফন্টটা ডিফল্ট ভাবেই উইন্ডোজ ৮ এ দেয়া আছে 🙂

এবার উপরের নিয়মেই New Tab > about:config > Search “Beng” এ গিয়ে-

উপরের যে স্থান গুলোতে “Siyam Rupali” দেয়া হয়েছে সে স্থান গুলোতে একই ভাবে পরিবর্তন করে লিখুন “Nirmala UI“.

তাহলেই দেখুন ফন্ট পরিবর্তন হয়ে গেছে। এইটাও ফায়ারফক্স (যে কোন সংস্করণ) এবং থান্ডারবার্ড (যে কোন সংস্করণ) দুটোতেই কাজ করবে।

ধন্যবাদ।

বিঃ দ্রঃ এ ট্রিক্সটি ফায়ারফক্স এবং থান্ডারবার্ডের যে কোন সংস্করণে ১০০% কার্যকর।

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

আরো দেখতে পারেনঃ

গুগল ট্রান্সলেট (Google Translate) কি এবং এর ব্যবহার

গুগল ট্রান্সলেট হচ্ছে গুগলের একটা অনলাইন সার্ভিস, যা দিয়ে এক ভাষার লেখাকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরিত করা হয়। একে অনুবাদ বলা যায় না, কারন এটি এক ভাষার কোন বাক্য কে অন্য ভাষায় সম্পূর্ন রূপে অনুবাদ করতে পারে না। এটি শুধু এক ভাষার বাক্যের প্রত্যেক শব্দকে অনুবাদ করে এর নিজের আয়ত্বে থাকা কিছু বাক্যের সাথে মিলিয়ে আপনাকে একটা করে বাক্য সাজিয়ে দেয়। এই বাক্যটি কোন গ্রামাটিকাল রুলে সাজানো থাকবে না, তবে আপনি মোটামুটি বুঝতে পারবেন যে আসলে ঐ বাক্যে কি বলা হচ্ছে। এটি প্রথম ভাষাকে শব্দান্তর করে এর বিশাল শব্দ ভান্ডার থেকে এবং বাক্য সাজায় এর সংগ্রহে থাকা উদাহরন থেকে। যে কোন বাক্যকে ভাষান্তরিত করার সময় এর নিজের সংগ্রহে থাকা উদাহরনের যে বাক্যের সাথে ঐ বাক্যটি মোটামুটি মিলে যায় তার আকারে এটি ট্রান্সলেট করা বাক্যটিকে সাজিয়ে দেয়। এ জন্য এতে কমন বাক্য গুলোর সঠিক ভাষান্তর পাওয়া গেলেও, একটু জটিল হলেই এটি সঠিক ভাবে ট্রান্সলেট করতে পারে না। তবে এটি মোটামুটি কাজ চালিয়ে যাবার মত ভাষান্তরিত করতে পারে। এটি ২০০৬ এর দিকে চালু হলেও এতে বাংলা ভাষা যুক্ত হয়েছে এই বছরে। তবে উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এটি ইন্ডিয়ান বাংলা হিসেবেই চালু হয়েছে। এটি বর্তমানে ৬০+ ভাষা সাপোর্ট করে। এর উন্নয়ন কাজ এখনো চলছে। আরো বিস্তারিত জানতে এখানে দেখতে পারেন। আশা করি গুগল ট্রান্সলেট সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা হয়েছে। এখন এটির ব্যবহার বিধি দেখা যাক।

ব্যবহার বিধিঃ

এর ব্যবহার বিধি পানির মত সহজ। তারপরও দেখিয়ে দিচ্ছি 🙂 প্রথমে গুগল ট্রান্সলেটর চালু করুন।
গুগল ট্রান্সলেটর এর ঠিকানা – translate.google.com
তাহলে নিচের মত একটি পেজ দেখতে পাবেন।

ক্রমিক নং অনুযায়ী মিলিয়ে পড়ুনঃ
1. এখানে আপনি কোন ভাষা থেকে ট্রান্সলেট করবেন তা দেখিয়ে দিন। এটি না দেখিয়ে দিলেও হয়। কারন আপনি লেখা ইনপুট দিলে এটি সংক্রিয় সে ভাষা সিলেক্ট করে নেয়।
2. এখানে আপনি কোন ভাষায় ট্রান্সলেট করবেন তা দেখিয়ে দিন। যেমনঃ বাংলার জন্য Bengali.
3. এখানে ক্লিক করলে আপনার দেয়া লেখা ট্রান্সলেট হবে এবং তা ৫নং বাক্সে দেখাবে।
4. এখানে যে বাক্যটি বা প্যারাটি ট্রান্সলেট করতে হবে তা লিখুন।
5. এখানে ট্রান্সলেট করা লেখা দেখা যাবে।

সুবিধা সমূহঃ

১. গুগল ট্রান্সলেট এ কোন শব্দের আল্টারনেট শব্দ অর্থাৎ একই ধরনের শব্দ দেখার সুবিধা আছে। এ জন্য ট্রান্সলেট হওয়া অংশে অর্থাৎ ৫নং অংশে ফলাফলের উপর মাউস পয়েন্টার রেখে বাম বাটন চাপলেই অল্টারনেট শব্দ গুলো দেখা যাবে এবং ঐ শব্দটি আদি ভাষার কোন শব্দের অর্থ তাও দেখাবে। যেমনঃ

২. উপরের চিত্রে একটা কালো বাক্সে দেখতে পাচ্ছেন, এতে ক্লিক করে আপনি ইংলিশ বাক্যটির উচ্চারনও শুনতে পারবেন :)।

৩. গুগল ট্রান্সলেট এর বড় সুবিধা হল এটি শুধু বাক্য বা প্যারা ট্রান্সলেট করতে পারে না, এটি সম্পূর্ন ওয়েব সাইটও ট্রান্সলেট করতে পারে। কোন সাইটকে ট্রান্সলেট করতে চাইলে ৪নং বাক্সে সে সাইটের ঠিকানাটি লিখুন এবং একটু অপেক্ষা করুন বা ৩নং বাটনটি অর্থাৎ Translate বাটনটি ক্লিক করুন। তাহলে দেখবেন ৫নং বক্সে একটি লিঙ্ক এসেছে, এতে ক্লিক করলেই আপনি ঐ সাইটের সম্পূর্ন ট্রান্সলেট দেখতে পাবেন।

৪. ফায়ারফক্সে গুগল ট্রান্সলেটরের জন্য একটি অ্যাড-অনও আছে। এর ঠিকানা – addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/google-translator-for-firefox/
এটি ইনস্টল করে এর Option থেকে বাংলা বা আপনি যে ভাষা চান তা সিলেক্ট করে দিন। তারপর ওয়েব সাইটের যে কোন লাইন সিলেক্ট করে রাইট ক্লিক করে ‘Translate selection with Google Translate’ এ ক্লিক করলেই ঐ সিলেক্ট করা বাক্যটির ট্রান্সলেট দেখতে পাবেন।

এগুলোই এর প্রধান সুবিধা। আমি গুগল ট্রান্সলেট সম্পর্কে যা জানি তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আমি মানুষ, তাই আমার ভুল হতেই পারে। তাই পোষ্টে কোন ভুল হলে তা কমেন্টে বলবেন। আজ এ পর্যন্তই। কোন সমস্যা হলে কমেন্টে বলবেন।
ধন্যবাদ।

বাংলা সমস্যা? সমাধান অভ্র


এ পোষ্টে প্রধানত অভ্রের সুবিধা/বৈশিষ্ট্য গুলো প্রশ্ন-উত্তর আকারে দেয়া হবে। প্রশ্ন-উত্তর আকারে দেয়ার কারণ হল বাংলা নিয়ে যে সব সমস্যা হয় সেগুলোর সব সমাধান যে অভ্রে আছে তা প্রমাণ করা। তাহলে পোষ্ট শুরু করা যাক।

১. ওয়েব সাইটে বাংলা লেখা দেখা যাচ্ছে না?
উঃ বাংলা না দেখার প্রধান কারণ আপনার অপারেটিং সিস্টেম ইউনিকোড সাপোর্ট করে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অভ্র ইন্সটল করুন, কারণ অভ্রের সাথে একটি উপ সফটওয়্যার (একে অভ্রের অ্যাড-অন বলা যায়) দেয়া থাকে। এর নাম IComplex. এটি উইন্ডোজে ইউনিকোড সাপোর্টের জন্য যা যা লাগে সেগুলো ইন্সটল করে। সহজ কথায় বলতে গেলে আপনার অপারেটিং সিস্টেমকে ইউনিকোড সাপোর্টেড করে। ফলে আপনি বাংলা লেখা দেখতে পাবেন।

২. ওয়েব সাইটে বাংলা লেখা বেশী ছোট দেখা যাচ্ছে?
উঃ বাংলা লেখা ছোট দেখার কারণ হচ্ছে ওয়েব ব্রাউজারে ডিফল্ট হিসেবে যে ফন্ট ব্যবহার করা হয় তার সাইজ ছোট। সাধারণত ডিফল্ট হিসেবে Vrinda নামে একটি ফন্ট সিলেক্ট করা থাকে। এর আকার তুলনা মূলক ছোট। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অভ্র ইন্সটল করুন। কারণ অভ্রের সাথে আরও একটি উপ সফটওয়্যার দেয়া আছে। এর নাম Font Fixer. এটি vrinda ফন্টের স্থানে Siyam Rupali নামে অভ্রের নিজস্ব একটি ফন্ট প্রতিষ্ঠাপিত করে। Siaym Rupali ফন্টটি তুলনা মূলক আকারে বড়। তাই ওয়েব সাইটে বাংলা লেখা বড় দেখা যাবে। (বিঃদ্রঃ ফায়ারফক্সে Ctrl + Plus চেপেও লেখা বড় করা যায়)

৩. আমি বাংলা লিখতে পারি না। বাংলা লেখার জন্য কোন সহজ পদ্ধতি আছে?
উঃ হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। আপনি বাংলা লিখতে পারেন না। কিন্তু আপনি ইংরেজি দিয়ে বাংলা তো লিখতে পারবেন। তা পারলেই হবে। বাকি কাজ করবে অভ্র। অর্থাৎ আপনি ইংরেজিতে বাংলা লিখবেন আর অভ্র তাকে বাংলায় রূপান্তরিত করবে। যেমন আপনি যদি লিখেন “amar” আপনার লেখা উঠবে “আমার”। এ পদ্ধতিকে বলে Phonetic. অভ্র ইন্সটল করলে ডিফল্ট হিসেবেই এ সুবিধা পাবেন।

৪. আমি যে সব সফটওয়্যার ব্যবহার করি সেগুলো ইউনিকোড সাপোর্ট করে না। এখন কি দিয়ে বাংলা লিখব?
উঃ অভ্র দিয়ে লিখুন। অভ্র দিয়ে আপনি Unicode এবং ASCII/ANSI উভয় পদ্ধতিতে বাংলা লিখতে পারবেন। অভ্র দিয়ে ASCII/ANSI তে বাংলা লিখতে হলে লেখার সময় শুধু Shift + F12 চাপুন। আবার আপনি ANSI থেকে Unicode এ লিখতে চাইলে আবার Shift + F12 চাপুন। (বিঃদ্রঃ বিজয়ে বাংলা লিখতে যেমন Alt + Ctrl + B চাপতে হয় সেরকম অভ্রে বাংলা লিখার জন্য F12 চাপতে হয়।)

৫. আমার বাংলা লেখার সময় বানান ভুল হয়। বাংলা বানান ঠিক করার জন্য কোন স্পেল চেক করার সফটওয়্যার আছে?
উঃ হ্যাঁ। অবশ্যই আছে। এটি হচ্ছে অভ্র। আপনি অভ্র ইন্সটল করলে একটি বাংলা স্পেল চেকার পাবেন। এছাড়া অভ্র ইন্সটল করলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বাংলা লিখলে ইংরেজি স্পেল চেক করার মত বাংলাও চেক করতে পারবেন। এর জন্য অভ্র ইন্সটল করে ওয়ার্ড চালু করুন। তাহলে দেখবেন Avro Bangla Tools নামে একটি মেনু/ট্যাব ওয়ার্ডে যোগ হয়েছে। এতে ক্লিক করল Start Spell check! নামে একটি অপশন পাবেন, এতে ক্লিক করে আপনি বাংলা স্পেল চেক করতে পারবেন।

অভ্র স্পেল চেকার

৬. আমার কিছু ইউনিকোডে লেখা ফাইল আছে। এগুলো ANSI করার জন্য কোন কনভার্টার আছে?
উঃ অবশ্যই আছে। এর নাম Unicode to Bijoy text converter. এটিও অভ্রের একটি উপ সফটওয়্যার। অভ্র ইন্সটল করে এর স্কিনের এ চিহ্নতে ক্লিক করে Unicode to Bijoy text converter এ ক্লিক করুন। তাহলে যে উইন্ডোটি আসবে সেখানে উপরের ঘরে ইউনিকোডে লেখা Text গুলো কপি-পেস্ট করে দিন। তারপর Convert to Bijoy encoding বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে নিচের বক্সে আপনি আপনার লেখা ANSI তে দেখতে পাবেন।

ইউনিকোড থেকে বিজয় কনভার্টার

৭. আমি বর্ণনা/মুনির/ন্যাশনাল/প্রভাত এ লিখি। আমি কি অভ্রতে এ লেআউট গুলো ব্যবহার করতে পারব?
উঃ হ্যাঁ। অভ্রতে ডিফল্ট হিসেবে এ সব লেআউট দেয়া থাকে। আপনি অভ্রের স্কিনের এ চিহ্নতে ক্লিক করে আপনার পছন্দের লে আউট সিলেক্ট করে দিতে পারবেন।

৮. আমি ইউনিবিজয়/বিজয় লেআউট ব্যবহার করি। এ লেআউট গুলো কি অভ্রে আছে?
উঃ অভ্রের সাথে এগুলো দেয়া না হলেও আপনি এগুলো যোগ করে নিতে পারবেন। এ জন্য আপনাকে এখান থেকে Avro Layout (Bijoy and UniBijoy).zip নামে জিপ ফাইলটি ডাউনলোড করতে হবে। তারপর জিপ ফাইলটি আন জিপ করুন। সেখানে “UniBijoy.avrolayout” এবং “Bijoy.avrolayout” নামে দুটি ফাইল আছে। যারা ইউনিবিজয় ব্যবহার করেন তারা “UniBijoy.avrolayout” এ ডাবল ক্লিক করে OK তে ক্লিক করুন। আর যারা বিজয় লেআউট ব্যবহার করতেন তারা “Bijoy.avrolayout” এ ডাবল ক্লিক করে OK তে ক্লিক করুন। বিজয় লেআউটটি আসলে বিজয় লেআউটের সাথে ১০০% মিল আছে।

৯. বাংলা লেখার জন্য পোর্টেবল কোন সফটওয়্যার আছে?
উঃ অবশ্যই আছে। বাংলা লেখার জন্য অভ্রের পোর্টেবল ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। একে যে কোন পেনড্রাইভ বা রিমুভাল ড্রাইভে রেখে ব্যবহার করা যায়।

এগুলো ছাড়া বাংলা নিয়ে আর কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। আর কোন সমস্যা হলে আপনি কমেন্টে লিখতে পারেন। উপরের সুবিধা ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু সুবিধা আছে। সেগুলো হলঃ

ক. আপনি অভ্রতে ইচ্ছে মত লেআউট তৈরি করার সুবিধা আছে। আপনি Start Menu => Programs => Avro Keyboard এ গিয়ে Layout Editor এ ক্লিক করে আপনার ইচ্ছে মত লেআউট তৈরি করতে পারবেন।

খ. অভ্রের লেআউট দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটি গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়। এ ছাড়া সাথে আরও কিছু লেআউট দেয়া আছে। এগুলো দেখার জন্য অভ্রের স্কিনের এ চিহ্নতে ক্লিক করে Options এ ক্লিক করুন। তারপর Interface এ ক্লিক করে Select skin থেকে আপনি অন্য স্কিন সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। এছাড়া অভ্রে নিজে নিজে স্কিন তৈরি করার সুবিধা আছে। আপনি Start Menu => Programs => Avro Keyboard এ গিয়ে Skin Designer এ ক্লিক করে আপনার ইচ্ছে মত স্কিন তৈরি করতে পারবেন।

গ. অভ্রের সাথে আকর্ষনীয় দুটি ফন্ট “সিয়াম রুপালি” এবং “কালপুরুষ” এর ইউনিকোড (Unicode) এবং আনসি (ANSI) উভয় ভার্সন একত্রে দেয়া থাকে।

এ পোষ্টটিতে অভ্রের সব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন আপনিই নির্ধারণ করুন – আপনি বাংলা লেখার জন্য অভ্র ব্যবহার করবেন না অন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন?

ডাউনলোড অভ্র
অভ্রের শেষ সংস্করণঃ অভ্র ৫.১

বিঃদ্রঃ এ পোষ্টটিতে অভ্রের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে এবং অভ্রের নতুন সংস্করণ এলে এ পোষ্টটি প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেট করা হবে। পোষ্টে দেয়া সকল বৈশিষ্ট্য/সুবিধা অভ্রের নতুন সংস্করণে পাওয়া যাবে।

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

আরো দেখতে পারেনঃ

বাংলা অক্ষরের সঠিক উচ্চারণ আপনার জানা আছে, না থালে জেনে নিন

আমাদের মাতৃ ভাষা বাংলা। কিন্তু দেখা যায় সব ঠিক থাকলেও অনেকেই গোঁড়ায় গলদ করে ফেলে। গোঁড়ায় গলদ বলতে বোঝাচ্ছি অ অ ক খ শেখার সময় অনেক বর্ণের উচ্চারণ অনেকে বিকৃত পড়ে। তা হয়তো অনেকে অনুধাবন করতে পরেছেন। না করতে পারলে সমস্যা নেই। নিচে যে যে বর্ণের উচ্চারণ বিকৃত হয় তার সঠিক উচ্চারণ বাংলা ও কিছু উচ্চারণ ইংরেজিতে দেয়া হল। এগুলো বাংলা মুক্ত বিশ্বকোষ (উইকিপিডিয়া) থেকে সংগ্রহ করা।
্ -> হসন্ত -> অ-স্বর উচ্চারিত হয় না
ৎ -> খণ্ড ত -> ত্‌ এর আরেকটি রূপ
ং –> অনুস্বর -> ঙ এর আরেকটি রূপ
ঃ -> বিসর্গ -> হ্‌ এর আরেকটি রূপ
ঁ -> চন্দ্রবিন্দু -> সানুনাসিক স্বর

ঙ -> ungô, umô –> উ ম
ঞ -> ingô, niô -> নিও
জ -> borgio jô / burgijjô –> বর্গীয় জ / বর্গীজ্য (উচ্চারনঃ বর্গীজ্ জ)
ণ -> murdhonno nô / moddhennô –> মূর্ধন্য ন / মূধ্যেন্য (উচ্চারনঃ মূধ্ ধেন্ ন)
ন -> donto nô / dontennô –> দন্ত্য ন / দন্ত্যন্য (উচ্চারনঃ দন্তন্ ন)
য -> ôntostho jô / ontostejô –> অন্তস্থ য / অন্তস্থয
র -> bôe shunno rô –> ব শূন্য র
শ -> talobbo shô / taleboshshô –> তালব্য শ / তালোবশ্য (উচ্চারনঃ তালোবশ্ শ)
ষ -> murdhonno shô –> মূর্ধন্য ষ
স -> donto shô / donteshshô –> দন্ত্য স / দন্তস্য (উচ্চারনঃ দন্তস্ স)
য় -> ôntostho ô / ontosteô –> অন্তস্থ য় / অন্তস্থ (উচ্চারনঃ অন্তন্থ অ)
ঢ় -> đhôe shunno ŗô –> ঢ শূন্য ঢ়
ড় -> đôe shunno ŗô –> ড শূন্য ড়

ক্ষ -> ক ষ মিলিত

অতিরিক্তঃ
ইংরেজি লেখার সব বর্ণ একত্রিত করে The quick brown fox jumps over the lazy dog বাক্যটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলায় কি এরকম কোন বাক্য তৈরি করা হয়েছে? কারও জানা থাকলে একটু বলবেন কি। না থাকলে দেখি আমরা চেষ্টা করে বানাতে পারি কিনা। তাহলে বাংলা লিখতে অনুশীলন করার জন্য ঐ বাক্যটি ব্যবহার করা যাবে।

ফায়ারফক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অ্যাড-অনস – ১

ফায়ারফক্সের কিছু প্রয়োজনীয় অড-অনস এর বর্ণনা আজ দিচ্ছি। দেখুন আপনার কাজে লাগে কিনা।
১. অ্যাড ব্লক (Adblock) – এটি ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞাপন ব্লক করার জন্য। আমার মত বেশির ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী লিমিট ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট ব্যবহার করি। তাই আমাদের হিসাব করে নেটে কাজ করতে হয়। আর বিভিন্ন সাইটে যে সব বিজ্ঞাপন থাকে তা আমাদের তেমন একটা লাগে না। কিন্তু সেগুলো ওয়েব পেজের সাথে ডাউনলোড হয়ে – এক. ওয়েব সাইট চালু হওয়ার গতি ধির করে দেয়, দুই. এতে আমাদের ব্যান্ডউইথ অকারণে খরচ হয়। তাই এ অড-অনটি অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। এ অড-অনটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। এটি ইনস্টল করে দুটি ফিল্টার সিলেক্ট করে দিতে হয় তা না হলে এটি কাজ করবে না। এর জন্য এটি ইনস্টল করে ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করুন। এবার Ctrl + Shift + E চাপুন। তাহলে “Adblock plus preferences” নামে একটি উইন্ডো আসবে। এখানে Filters মেনু থেকে Add filter subscription এ ক্লিক করুন। এবার লিস্ট থেকে EasyList (English) সিলেক্ট করে Add subscription বাটনে ক্লিক করুন। আবার Filters মেনু থেকে Add filter subscription এ ক্লিক করে লিস্ট থেকে Fanboy’s List (English) সিলেক্ট করে Add subscription বাটনে ক্লিক করুন। তারপর এটি সয়ংক্রিয় ফিল্টার আপডেট করে নিবে।

২. ফ্ল্যাসব্লক (Flashblock) – এর নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি ফ্ল্যাস কনটেন্ট ব্লক করে দেয়। ওয়েব সাইটে আপনি যদি ফ্ল্যাস দিয়ে কোন কাজ না করেন তাহলে এটি দিয়ে ফ্ল্যাস কনটেন্ট ব্লক করে আপনার ওয়েব পেজ লোডের গতি বাড়াতে এবং ব্যান্ডউইথ খরচ বাচাতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৩. প্রোকন ল্যাট (ProCon Latte) – ধরুন নেট ব্রাউজিং করছেন হটাৎ কোন পর্নো সাইট বা পর্নো কনটেন্ট সামনে চালু হল। এমন সময় যদি ছোট কেউ বা মুরব্বি ধরনের কেউ সামনে থাকে তখন কি অবস্থা হতে পারে তা তো বুঝতে পারছেন। এ ছাড়া পর্নো সাইটগুলোতে হ্যাকাররা ওতপেতে থাকে এবং সুযোগ মত কম্পিউটারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এসব পর্নো সাইট, কনটেন্ট এবং অনিরাপদ সাইট ব্লক করার জন্য প্রোকন ল্যাট অ্যাড-অনটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। এটি অনেক সময় ভাল সাইটকেও ব্লক করে। তখন পেজের উপরে Option নামে একটি বাটন আসে। সেখানে ক্লিক করে Continue ক্লিক করে Add current site বাটনে ক্লিক করে Reload ক্লিক করলেই সে সাইটটি আর ব্লক করবে না। আপনার বাসায় যদি অন্য কেউ বা ছোট কেউ নেট ইউজ করে তখন এটি দিয়ে রাখতে পারেন। এতে পাসওয়ার্ড দেয়ারও সুবিধা আছে।

৪. বাঙ্গালী বাংলাদেশ ডিকশনারি (Bangali Bangladesh Dictionary) – এটি বাংলা ডিকশনারি। বাংলা বানানে কোন ভুল হলে তা এটি ধরিয়ে দেবে। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। বানান সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আসলেই দারুন একটি অড-অন। অনেক সময় তাড়াতাড়ি লেখার সময় বাংলা বানানে ভুল হয় তখন এটি আপনাকে বানান ঠিক করতে সাহায্য করবে।

৫. ডাউনলোড স্ট্যাটাস বার (Download Statusbar) – এটি তেমন প্রয়োজনীয় কোন অড-অন না। আপনি কোন জিনিস ডাউনলোড করলে তা সাধারনত অন্য আরেকটি উইন্ডোতে দেখায়। কিন্তু এটি ইনস্টল করলে ডাউনলোড করা ফাইল গুলোর নাম ফায়ারফক্সের নিচে দেখাবে। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৬. রিড ইট লেটার (Read it later) – ধরুন ব্লগ পড়ছেন। একটি সুন্দর ব্লগ পেলেন কিন্তু তখন পড়ার সময় নেই। তখন একে পরে পড়ার জন্য এ অড-অনটি ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার পেজটি পড়ে পড়ার জন্য রেখে দিতে পারেন। কোন সাইট পড়ে পড়ার জন্য রেখে দিতে চাইলে শুধু নিচের চিহ্নটিতে ক্লিক করলেই হবে।

আপনি যদি কোন পেজ অফলাইনে পড়ার জন্য রেখে দিতে চান তাহলে প্রথমে উপরের চিহ্নটিতে ক্লিক করে রিড ইট লেটারের চিহ্নতে ক্লিক করে নিচের চিহ্নতে ক্লিক করতে হবে।

অড-অনটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। কোন বড় লেখা বা ব্লগের লেখা অবসর সময়ে পড়ার জন্য এ অড-অনের কোন বিকল্প নেই।

৭. ফেসবুক চ্যাট বার (Facebook chat bar) – এটি তেমন প্রয়োজনীয় কোন অড-অন না। এটি আসলে ফেসবুকে আবেগ চিহ্ন দেয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৮. এফইবিই (FEBE) – এর পূর্ণরূপ হল Firefox Environment Backup Extension. অর্থাৎ এটি দিয়ে ফায়ারফক্সের সব অড-অন, সেটিংস, বুকমার্ক, পাসওয়ার্ড ইত্যাদির ব্যাকআপ রাখা যাবে। এটি এখান থেকে ডাউন লোড করতে পারেন। এটি দিয়ে ব্যাকআপ রাখলে নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করার পরে আর কষ্ট করে আপনাকে আবার অড-অন গুলো ডাউনলোড করতে হবে না। ব্যাকআপ থেকে ইনস্টল করতে পারবেন।
আজকে এ পর্যন্তই। আশা করি অড-অন গুলো কাজে লাগবে।