ডেস্কটপ রিফ্রেশ কেন করবেন? এটি কি আসলেই কোনো উপকার করে?

উইন্ডোজ ডেস্কটপে মাউস দিয়ে রাইট ক্লিক করলে Refresh নামে একটি অপশন পাওয়া যায়।

Desktop Refresh

এটির কাজ কি? এটি করলে কি উইন্ডোজের কাজের গতি বাড়ে? উইন্ডোজ স্মুথ ভাবে চলে?

না, এগুলোর কিছুই হয়না এটি দিয়ে।

বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

ছবির ভিতর লুকিয়ে রাখুন আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল বা ফোল্ডার

আমরা খুব গুরুত্বপূর্ন ফাইল বা ফোল্ডার গুলো বিভিন্ন ভাবে লুকিয়ে রাখি। বেশীর ভাগ সময় বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করেই বেশীর ভাগ সময় ফাইল বা ফোল্ডার লুকিয়ে রাখি। তবে আপনি চাইলে ছবির ভিতরও আপনার ফাইল বা ফোল্ডার লুকিয়ে রাখতে পারেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কেউ ধারনাও করতে পারবে না যে আপনার ফাইল বা ফোল্ডার একটা সাধারন ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে। এবার দেখা যাক কিভাবে ছবিতে ফাইল বা ফোল্ডার লুকানো যায়।
ছবিতে ফাইল বা ফোল্ডার লুকাতে উইনরার (WinRAR) সফটওয়্যারটি লাগবে। আপনার কাছে উইনরার না থাকলে এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। উইনরার দিয়ে কিভাবে ফাইলকে সর্বোচ্চ ছোট করা যায় তার পদ্ধতি এখান থেকে দেখে আসতে পারেন। ছবিতে ফাইল বা ফোল্ডার লুকানোর জন্য একটি কমান্ড (.cmd) ফাইল তৈরি করতে হবে। এই কমান্ড ফাইলে মাত্র এক ক্লিক করেই ছবিতে ফাইল লুকানো যাবে। প্রথমে কমান্ড ফাইলটি তৈরি করা যাক। এর জন্য নোটপ্যাড ওপেন করে নিচের কোড গুলো লিখুন এবং একে Marge.cmd নামে সেভ করুন।

@echo off
copy /b Picture.jpg + Program.rar Result.jpg
echo Complete
pause
end

এবার কিভাবে কমান্ড ফাইলটি ব্যবহার করতে হবে তা দেখা যাক। এখন একটি JPEG (.jpg) ফাইল এবং আপনি যে ফাইল বা ফোল্ডারটি হাইড করতে চান তা একটি খালি ফোল্ডারে রাখুন। এবার উইনরার (WinRAR) সফটওয়্যারটি ইনস্টল করুন। তারপর আপনার ফাইল বা ফোল্ডারটির উপর রাইট ক্লিক করে Add to archive এ ক্লিক করুন। তারপর যে উইন্ডো আসবে সেখান Archive name এ লিখুন Program.rar এবং OK ক্লিক করুন। তাহলে Program.rar নামে একটি রার (RAR) ফাইল তৈরি হবে। এবার আপনি যে ছবিতে (ছবির ফাইলটি অবশ্যই JPEG হতে হবে) ফাইল বা ফোল্ডার লুকাতে চান তার নাম পরিবর্তন করে Picture.jpg করুন। এবার যে ফোল্ডারে Program.rar ও Picture.jpg ফাইল দুটি রেখেছেন সেখানে Marge.cmd ফালটি কপি-পেস্ট করুন। সব করা শেষ হলে Marge.cmd ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে চালু করুন। কাজ শেষে Complete লেখা দেখালে কিবোর্ডের যে কোন একটি কি প্রেস করুন।
তাহলে দেখবেন আপনার ফোল্ডারটিতে Result.jpg নামে একটি পিকচার ফাইল তৈরি হবে। এতেই আপনার ফাইল বা ফোল্ডারটি লুকিয়ে আছে।
Result.jpg ফাইলটি চালু করলে আপনার ছবিটি দেখতে পাবেন। আর আপনার লুকনো ফাইল গুলো দেখতে Result.jpg এর উপর মাউস পয়েন্টার রেখে রাইট ক্লিক করে Open with থেকে Choose Program এক ক্লিক করে WinRAR archiver সিলেক্ট করে OK তে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ফাইল বা ফোল্ডার গুলো দেখতে পাবেন। আপনি চাইলে এখন আগের Program.rar ও Picture.jpg ফাইল দুটি মুছে দিতে পারেন।

ভাল লাগলে কমেন্ট করার চেষ্টা করবেন।

বিদ্যুতের গতিতে কম্পিউটারের ফাইল সার্চ করুন (১০০% গ্যারান্টি)

আমরা যখন কম্পিউটারে ফাইল সার্চ করি তখন অযথা অনেক সময় নষ্ট হয় এবং অনেক সময় সঠিক ফাইল খুঁজে পাওয়া যায় না। ফাইল সম্পূর্ণ ইনডেক্স করা হলেও তেমন স্পিড পাওয়া যায় না। এর সমাধান করতে গুগল নিজেই আপনাকে সাহায্য করবে। গুগলের ওয়েব সার্চিং এর গুন সবারই জানা আছে। গুগল আপনার হার্ডডিস্কের ফাইল সার্চ করার জন্য সুন্দর একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এর নাম গুগল ডেস্কটপ।
এটির সাইজ ২ মেগাবাইটেরও কম। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। প্রথমে ফাইল ইনডেক্স করতে সময় নিবে। একবার ফাইল ইনডেক্সিং সম্পূর্ণ হলে ফাইল বিদ্যুতের গতিতে সার্চ করতে পারবেন। এর অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে কিছু সুন্দর ডেক্সটপ গ্যাজেট পাবেন। গ্যাজেটের মধ্যে আছে টুইটার, অ্যানালগ ঘড়ি ইত্যাদি। আপনি আরও গ্যাজেট নেট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। যখনই কোন কিছু সার্চ করার প্রয়োজন হবে শুধু কীবোর্ড থেকে Ctrl কি দুইবার চাপ দিবেন তাহলে নিচের মত সার্চ বক্স চলে আসবে।
গুগল ডেস্কটপ সব উইন্ডোজ সাপোর্ট করে। এর লিনাক্স ও ম্যাক ভার্সনও আছে। পোষ্ট শেষ করার আগে একটা টিপস্ দেই- যখন কম্পিউটারে আপনার কোন কাজ থাকবে না তখন কম্পিউটার চালু করে রেখে দিন, তাহলে গুগল ডেস্কটপ দ্রুত ফাইল ইন্ডেক্সিং করা শেষ করতে পারবে। ইন্ডেক্সিং শেষ হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য নোটিফিকেশন এরিয়া থেকে গুগল ডেস্কটপের আইকনের উপর মাউস পয়েন্টার রাখুন। তখন যদি কোন পার্সেন্টেজ দেখায় তাহলে ইন্ডেক্সিং চলছে। আর যদি Google Desktop লেখাটি দেখায় তাহলে ইন্ডেক্সিং শেষ।
সফটওয়্যারটি ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন।

ফোল্ডারে পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্য একটি ছোট ও কার্যকর সফটওয়্যার

আমাদেরকে বিভিন্ন কারনে ফাইলকে লুকিয়ে রাখার বা পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখার প্রয়োজন হয়। আনেক পাসওয়ার্ড সফটওয়্যার আছে। কিন্তু তা উইন্ডোজ রিইনস্টল করলে তা চলে যায় এবং তা দিয়ে পেনড্রাইভে পাসওয়ার্ড দেয়া যায় না। এসব সমস্যার সমাধান হল “File Protector”। এই সফটওয়্যারটি দিয়ে আপনি হার্ডড্রাইভ বা পেনড্রাইভ যে কোনটির ফাইলে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখতে পারবেন। এর সাইজ মাত্র ৬৮৫ কিলোবাইট। এটি ইনস্টল করার কোন ঝামেলা নেই। এটি একটি পোর্টেবল সফটওয়্যার। এর ব্যবহার বিধি খুব সহজ। এর ইউজার ইন্টারফেস সুন্দর এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি।

এ সফটওয়্যারটি এখান থেকে ডাউনলোড করুন। ফোল্ডার লক করার জন্য এটিকে ফোল্ডারটির ভেতর কপি করুন এবং যে কোন পাসওয়ার্ড দিয়ে Protect বাটন ক্লিক করুন। এখন ফোল্ডার থেকে সফটওয়ারটি মুছে দিতে পারেন। আবার যখন পাসওয়ার্ড খুলতে হবে তখন সফটওয়ারটি আবার ফোল্ডারটিতে কপি করে চালু করুন তখন নিচের উইন্ডোটি দেখতে পাবেন।

এতে তিনটি রেডিও বাটন আছে। Virtual Disk সিলেক্ট করলে আপনার ফাইল গুলো একটি নতুন ড্রাইভে চালু হবে। Temporary সিলেক্ট করলে যে ফোল্ডারে এটি চালু করেছেন সে ফোল্ডারে আপনার ফাইল গুলো চালু হবে। এ দুটি সাময়িক ব্যবহারের জন্য। আপনি যদি প্রটেক্ট আর না করতে চান তাহলে Complete সিলেক্ট করুন। তারপর পাসওয়ার্ড দিয়ে Unprotect ক্লিক করুন। তবে সাবধান! এটির পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আপনার ফাইল আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। তবে এর প্রটেক্ট পদ্ধতি খুব শক্ত।

নোটপ্যাডের সাহায্যে ফোল্ডারে আইকন ও পিকচার যোগ করা

প্রথমে ফোল্ডারে পিকচার যোগ করার পদ্ধতি বলি। প্রথমে নোটপ্যাড চালু করুন এবং নিচের লাইন গুলো লিখুন।
[ExtShellFolderViews]
{BE098140-A513-11D0-A3A4-00C04FD706EC}={BE098140-A513-11D0-A3A4-00C04FD706EC}
[{BE098140-A513-11D0-A3A4-00C04FD706EC}]
Attributes=1
IconArea_Image=Picture.JPG

এবার যে ফোল্ডারের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি যোগ করতে চান সে ফোল্ডারে লেখাগুলো desktop.ini নামে সেভ করুন এবং ঐ ফোল্ডারে Picture.jpg নামে একটি JPEG ফরমেটের পিকচার ফাইল রাখুন। এবার F5 দিয়ে ফোল্ডার রিফ্রেস করলে ফোল্ডারের ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার দেয়া ছবি দেখতে পাবেন।
ফোল্ডারে আইকন যোগ করতে প্রথমে নোটপ্যাড চালু করুন এবং নিচের লাইন গুলো লিখুন।
[.ShellClassInfo]
IconFile=Icon.ico
IconIndex=0

এবার যে ফোল্ডারের আইকন যোগ করতে চান সে ফোল্ডারে লেখাগুলো desktop.ini নামে সেভ করুন এবং ঐ ফোল্ডারে Icon.ico নামে একটি আইকন ফাইল রাখুন। এবার F5 দিয়ে ফোল্ডার রিফ্রেস করলে ফোল্ডারের আইকনের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
ফোল্ডারে আইকন ও পিকচার একসাথে যোগ করতে চাইলে প্রথমে ফোল্ডারে দেয়া কোডগুলো লিখে আইকনে দেয়া কোড গুলো লিখতে হবে। তারপর desktop.ini নামে সেভ করে পিকচার ও আইকন ফাইল দুটি ঐ ফোল্ডারে দিতে হবে।
বোনাস হিসেবে কিছু আকর্ষনীয় আইকন এখানে দেয়া হল।

ফাইল ও ফোল্ডারের নাম বাংলায় লেখার পদ্ধতি

আমরা সাধারনত ফাইল বা ফোল্ডারের নাম ইংরেজীতে লিখি। তবে এগুলো চাইলে বাংলাতেও লিখতে পারেন। এর জন্য প্রথমে অভ্র নামের একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। অভ্রর ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেয়া আছে। এর সাথে দেয়া সব ফন্ট গুলো উইন্ডোজের ফন্ট ফোল্ডারে রাখতে হবে। সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করার পর নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুনঃ
১. প্রথমে ডেস্কটপে রাইট ক্লিক করে প্রোপার্টিজে যান।
২. Appearance ট্যাবে ক্লিক করুন।
৩. Advanced বাটনে ক্লিক করুন।
৪. Item বক্স থেকে Icon সিলেক্ট করুন।
৫. এবার Font বক্স থেকে Siyam Rupali ফন্টটি সিলেক্ট করুন এবং OK ক্লিক করে প্রোপার্টিজ থেকে বেরিয়ে আসুন।
এবার যেকোন ফাইল বা ফোল্ডারের নাম লেখার সময় অভ্র চালু করে বাংলা মোড চালু করে বাংলায় নাম লিখতে পারবেন।

অভ্র ডাইনলোড

আনকম্প্রেস্ড করার জন্য উইনরার এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

সমস্যা হলে মেইল করবেন।

সফটওয়্যার ছাড়া ফোল্ডার লক করা

এখানে যে পদ্ধতি বলেছি তা ফাইল লক করার সহয পদ্ধতি। এ লক ফাইল খোলাও সোজা। তবে সবার কাছে নয়।

লক করার নিয়মঃ

প্রথমে আপনাকে এক্সটেনশন (Ex: .txt, .doc etc.) শো করাতে হবে। এর জন্য মাই কম্পিউটার ওপেন করে মেনু থেকে Tools > Folder Options… এ ক্লিক করুন ( উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহারকরীরা মাই কম্পিউটার চালু করে কীবোর্ড থেকে Alt চাপ দিন তাহলে মেনু বার দেখতে পাবেন; উইন্ডোজ এইট এ View ট্যাবে গিয়ে Options এ ক্লিক করতে হবে।)। এবার Folder Options উইন্ডো থেকে View ট্যাবে যেতে হবে। তারপর Advanced Settings অংশ থেকে Hide extensions for known file types এর টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন। এবার নিচের নিয়ম অনুসরন করুনঃ

ফাইল লক করার জন্য শুধু কতগুলো কোড মুখস্থ রাখতে হবে। যেকোন ফোল্ডারের নামের শেষে ডট (.) দিয়ে লিখলে ফোল্ডার লক হবে। ফোল্ডার লক করা হলে তাতে ঢুকতে চাইলে অন্য ফোল্ডার চালু হবে। কোড গুলো নিচে দেয়া হলঃ

১. {21EC2020-3AEA-1069-A2DD-08002B30309D} – এ কোডটি দিলে কন্ট্রোল প্যানেল ওপেন হবে।

২. {20D04FE0-3AEA-1069-A2D8-08002B30309D} – এ কোডটি দিলে মাই কম্পিউটার ওপেন হবে।

৩. {E7E4BC40-E76A-11CE-A9BB-00AA004AE837} – এ কোডটি দিলে ইন্টারনেট এক্সপ্লোবার ওপেন হবে।

যেমনঃ কোন ফোল্ডারের নাম New হলে তা লক করতে ফোল্ডারটি রিনেম করে লিখতে হবে New.{20D04FE0-3AEA-1069-A2D8-08002B30309D}

তা হলে দেখা যাবে এটি কন্ট্রোল প্যানেলের আইকন হয়ে গেছে। প্রথম দু’টি কোডে আইকম পরিবর্তিত হলেও তৃতীয়টিতে কোন আইকন পরিবর্তন হবে না। সব কোড কাজ নাও করতে পারে।

ফোল্ডার লক করে ফোল্ডার অপশনে গিয়ে Hide extensions for known file types এর টিক টি দিয়ে দিন। তাহলে ফোল্ডারের কোড গুলো দেখা যাবে না। ফলে কেউ বুঝতেও পারবে না 🙂 আর এক্সপিতে সবগুলো কাজ করলেও সেভেন এবং পরের উইন্ডোজ গুলোতে প্রথমটি কাজ নাও করতে পারে।

লক খোলার নিয়মঃ

লক খোলার জন্য উপরের নিয়মে “Hide extensions for known file types” টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিয়ে ফোল্ডারের নামের শেষে শুধু শেষের ডট(.) সহ কোডটি মুছে দিলেই হবে।

কোন সমস্যা হলে কমেন্টে বলবেন। ধন্যবাদ।