ইয়েসাস পার্টিশন মাস্টার (EASEUS Partition Master) – দারুন একটি পার্টিশন ম্যানেজার

কম্পিউটারের একটি প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার হার্ডডিস্ক। অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার, গান, মুভি, ডাটা ইত্যাদি সব হার্ডড্রাইভে সংরক্ষিত থাকে। আমরা এসব সাজিয়ে রাখার জন্য হার্ডড্রাইভকে বিভিন্ন পার্টিশনে ভাগ করে থাকি। এ পার্টিশন ভাগ করার জন্য পার্টিশন ম্যানেজারের প্রয়োজন হয়। আজ ইয়েসাস (EASEUS) নামে একটি পার্টিশন ম্যানেজারের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। এটির দুটি এডিশন আছে একটি হোম এডিশন আরেকটি প্রোফেশনাল এডিশন। প্রোফেশনাল এডিশন আপনাকে কিনতে হবে, আর হোম এডিশন আপনি ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন। হোম এডিশনে প্রোফেশনাল এডিশন থেকে কয়েকটি সুবিধা কম আছে। তবে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা হোম এডিশন দেয়া আছে। এর ফ্রি ভার্সন এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

এর প্রধান সুবিধাঃ
১. এর ইন্টারফেস ইউজার ফ্রেন্ডলি। তাই সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
২. এটি পেনড্রাইভ সাপোর্ট করে।
৩. এটি দিয়ে আপনি সম্পূর্ন হার্ডডিস্ক বা শুধু পার্টিশন Wipe করতে পারবেন। কোন পার্টিশন Wipe করলে সে পার্টশনের ডাটা আর কখনো ফিরিয়া আনা যাবে না। আমরা যখন কোন ফাইল ডিলিট করে দেই তখন তা মুছে গেছে দেখা গেলেও আসলে মুছে না। ঐ ফাইলের জায়গাতে অন্য কোন ফাইল না প্রতিস্থাপিত হওয়া পর্যন্ত ঐ যায়গায় ফাইলটি থেকে যায়, শুধু ব্রাউজারে দেখা যায় না। যে কোন ডাটা রিকভারি টুল দিয়ে সেগুলো ফিরিয়া আনা যায়। এখন আপনার যদি খুব প্রয়োজনীয় কোন ডাটা থাকে, যা আর কেউ যাতে ফিরিয়া আনতে না পারে তা চান, তাহলে Wipe অপশনটা ব্যবহার করতে পারেন।
৪. ধরুন নতুন হার্ডডিস্ক কিনেছেন। এখন ভাবছেন এটাতে কি কি পার্টিশন তৈরি করবেন এবং কোন পার্টিশনে কত টুকু জায়গা রাখবেন, এরকম অবস্থায় আপনাকে এটি সাহায্য করতে পারবে। [নিচে বিস্তারিত বর্ননা দেয়া আছে]
৫. এতে পার্টিশন কপি করার সুবিধা আছে।
৬. এর একটি বড় সুবিধা হল এটির নিজস্ব হার্ডডিস্ক চেকার ফাংশন আছে। এতে আপনি আপনার হার্ডডিস্ক চেক করে সমস্যা বের করতে এবং সমাধান করতে পারবেন।
৭. এছাড়া পার্টিশনের সাধারন কিছু কাজ যেমনঃ রিসাইজ, মুভ, ডিফ্র্যগমেন্ট, ফরমেট ইত্যাদি সুবিধা তো আছেই।
এগুলোই মোটামুটি এর সুবিধা।

এর ইন্টারফেসের বিভিন্ন অংশঃ [চিত্রের নম্বরের সাথে মিলিয়ে পড়ুন]

1. এ অংশে আপনি এর সব ফংশন গুলো দেখতে পাবেন।
2. এখনে আপনি কাজের ধারা দেখতে পাবেন। ধরুন আপনি প্রথমে একটি পার্টিশন ডিলিট করতে আদেশ দিয়েছেন, তারপর তাকে ফরমেট করার আদেশ দিয়েছেন, সেগুলো এখানে দেখা যাবে। কাজের আদেশ দেয়ার পর প্রথমে এখানে তা দেখা যাবে, সব ঠিক থাকলে আপনি 5 নং চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করলে আপনার দেয়া আদেশ গুলো এটি পালন করা শুরু করবে।
3. এখানে আপনি আপনার হার্ডডিস্ক এবং তার সব পার্টিশনের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।
4. এখানে আপনার পার্টিশনের অবস্থা চিত্রের মাধ্যমে দেখাবে।

৪ নং সুবিধাটির ব্যবহারঃ
ধরুন নতুন হার্ডডিস্ক কিনেছেন। এখন ভাবছেন এটাতে কি কি পার্টিশন তৈরি করবেন এবং কোন পার্টিশনে কত টুকু জায়গা রাখবেন, এরকম অবস্থায় আপনাকে এটি সাহায্য করতে পারবে। আপনার যদি শুধু একটি হার্ডডিস্ক থাকে তাহলে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। আপনি এ সুবিধা ব্যবহার করতে আপনার হার্ডডিস্কটি অন্য কম্পিউটারে লাগিয়ে বা আপনার কম্পিউটারে একাধিক নতুন কোন হার্ডডিস্ক লাগালে বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে লাগালে এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। কারন এ সুবিধা ব্যবহারের জন্য প্রথম সব পার্টিশন ডিলিট করতে হয়, যা একটি হার্ডডিস্ক থাকলে করা সম্ভব না।
এখন একাধিক হার্ডডিস্ক লাগানো থাকলে EASEUS Partition Master চালু করুন। এবার 4 নং অংশ থেকে আপনার নতুন হার্ডডিস্কটির সব পার্টিশনে রাইট ক্লিক করে ডিলিট করে দিন (ফাংশনটির নাম Delete partition)। নতুন হার্ডডিস্ক সাধারনত Disk2 নামে দেখা যাবে। সব পার্টিশন ডিলিট করা হলে Unallocated লেখাটা দেখতে পাবেন। এবার নতুন হার্ডডিস্কের Basic MBR লেখাতে রাইট ক্লিক করে Partition scheme এ ক্লিক করুন।

তাহলে নিচের মত একটি উইন্ডো আসবে। এখানে Partition Scheme থেকে বেছে নিন আপনি কোন ধরনের বা কিভাবে পার্টিশনকে ভাগ করতে চান। তারপর OK বাটনে ক্লিক করে 5 নং চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করলে এটি কাজ শুরু করে দিবে।

আমি আমার সব পোষ্টে চেষ্টা করি আমার লেখা যাতে সব ধরনের কম্পিউটার ইউজার বুঝতে পারে। তারপরও যদি আমার কোন লেখা বুঝতে সমস্যা হয় বা কোন প্রশ্ন থাকে আপনি নির্দ্বিধায় তা কমেন্টে বলতে পারেন। আজ এ পর্যন্তই ধন্যবাদ।

পেনড্রাইভের সর্বোচ্চ স্পেস ব্যবহার করুন

আমরা প্রায় সবাই পেনড্রাইভ ব্যবহার করি। একটু পদ্ধতি খাটালে আপনি আগের তুলনায় অনেক বেশি ফাইল পেনড্রাইভে রাখতে পারবেন। এ জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরন করুন।
প্রথমে আপনার পেনড্রাইভ থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল গুলো কম্পিউটারে কপি করে রেখে দিন। তারপর মাই কম্পিউটার আইকনের উপর রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করুন। এবার System Properties উইন্ডো থেকে Hardware ট্যাবে ক্লিক করে Device Manager বাটনে ক্লিক করুন।

System Properties উইন্ডো

এবার Device Manager উইন্ডোতে Disk drivers থেকে আপনার পেনড্রাইভটিকে খুজে বের করুন।

যদি খুজে না পান তাহলে Disk drivers এ যে ড্রাইভ গুলো দেখাবে সে গুলোর প্রত্যেকটিতে রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করুন এবং দেখুন কোনটির Properties উইন্ডোতে device usage বক্সে Use this device (enable) লেখা দেখাচ্ছে। যে ড্রাইভের Properties এ লেখাটি দেখাবে সেটি হচ্ছে আপনার পেনড্রাইভ। আপনার পেনড্রাইভ খুজে পেলে তাতে রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করুন। এবার Properties উইন্ডো থেকে Policies ট্যাবে গিয়ে Optimize for performance রেডিও বাটনটিতে ক্লিক করে OK দিয়ে বের হোন।

এরপর মাই কম্পিউটারে গিয়ে আপনার পেনড্রাইভের উপর মাউন পয়েন্টার রেখে রাইট বাটন ক্লিক করে format… এ ক্লিক করুন। তারপর ফরমেট উইন্ডোতে File system থেকে ntfs সিলেক্ট করুন,Allocation unit size থেকে 512 bytes সিলেক্ট করুন এবং Enable compression চেক বক্সটি চেক করে Start এ ক্লিক করুন।

Format উইন্ডো

ফরমেট শেষে আপনি পেনড্রাইভে কোন কিছু রাখলে তা আগের তুলনায় কম যায়গা খরচ করবে। কোন সমস্যা হলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।