ওয়ার্ডপ্রেস.কম (WordPress.com) – টিউটোরিয়াল – ৬ – ব্লগের নাম, আইকন, ইমেইল, ভাষা ইত্যাদি পরিবর্তন করা এবং পেজ তৈরি করা

আজকের পোষ্টে দেখাব কিভাবে ব্লগের নাম, আইকন, ইমেইল, ভাষা ইত্যাদি পরিবর্তন করতে হয় এবং নতুন পেজ তৈরি এবং এডিট করতে হয়। তাহলে শুরু করা যাক।
ব্লগের নাম, আইকন, ভাষা ইত্যাদি পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে আপনাকে ব্লগের ড্যাসবোর্ডে যেতে হবে। ড্যাসবোর্ডে যাওয়ার পর বামে নিচের দিকে থেকে Settings বিভাগের General অপশনে ক্লিক করুন।

তাহলে যে পেজ আসবে সেখানে অনেক গুলো বক্স দেখতে পাবেন। Site Title বক্সে ব্লগের টাইটেল (যেমনঃ এই ব্লগের টাইটেল IW windows tricks) দিতে হবে। Tagline বক্সে ব্লগের বিষয়ের উপর একলাইনের সংক্ষিপ্ত বর্ননা দিতে হবে। যাতে ভিজিটর তা দেখে আপনার ব্লগের বিষয় বস্তু সম্পর্কে ধারনা পায়। E-mail address বক্সে আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন। এখানে যে ঠিকানা লিখবেন সে ঠিকানায় ব্লগে নতুন কমেন্ট এলে বা ব্লগের কেউ সাবক্রাইব হলে আপনাকে জানানো হবে। Timezone থেকে Dhaka সিলেক্ট করুন। Data Format থেকে পোষ্ট তারিখ কিভাবে দেখাবে তা দেখিয়ে দিন। Time Format থেকে সময় পোষ্টে কিভাবে দেখানো হবে তা দেখিয়ে দিন। Week Starts On থেকে Saturday সিলেক্ট করে দিন। এ বক্সে সপ্তাহের শুরু হয় কোন দিন থেকে তা দেখিয়ে দিতে হয়। আমরা তাই Saturday দেখিয়ে দিব। Language থেকে ব্লগের ভাষা ঠিক করে দিন। আপনার ব্লগটি যদি বাংলাতে হয় তাহলে “bn – বাংলা” সিলেক্ট করে দিন।

পেজের ডানদিকে Blog Picture / Icon নামে একটি অংশ আছে এখানে আপনার ব্লগের জন্য একটি আইকন সিলেক্ট করে দিতে পারেন। এই আইকন আপনার ব্রাইজারের এ্যাড্রেস বারের পাশে দেখা যাবে। আইকন যোগ করার জন্য ব্রাউজ বা Browse বাটনে ক্লিক করে একটি jpeg বা png পিকচার ফাইল দেখিয়ে দিন। তারপর Upload Image বাটনে ক্লিক করে পিকচার আপলোড করুন। আপলোড হলে আপনাকে পিকচারটির Crop করার অপশন দেবে। আপলোড করা পিকচারের কোন অংশ বা কতটুকু আইকন হিসেবে ব্যবহার করা হবে তা সেখানে দেখিয়ে দেয়া যাবে।
সব কাজ শেষে Save Changes এ ক্লিক করুন। তাহলে আপনার দেয়া সেটিং গুলো সেভ হবে। সব সেটিং সাথে সাথে চালু হলেও ব্লগের আইকন সাথে সাথে দেখা যাবে না। আইকন অ্যাকটিভ হতে কিছু সময় নিবে।

এবার দেখা যাক কিভাবে পেজ তৈরি করা যায়। পেজ তৈরির জন্য প্রথমে ব্লগের ড্যাসবোর্ডে গিয়ে বামে Pages অংশ থেকে Pages অপশনে ক্লিক করুন।

তাহলে যে পেজ আসবে সেখান আপনার সব পেজের নাম দেখাবে। এখন নতুন পেজ যোগ করতে চাইলে Add New বাটনে ক্লিক করুন।

আর আপনি যদি পুরনো পেজ সম্পাদনা (Edit) করতে চান তাহলে সে পেজের নামের উপর মাউস পয়েন্টার রাখতে হবে, তাহলে কিছু অপশন আসবে। সেগুলো থেকে Edit লেখাতে ক্লিক করতে হবে।

Add New বা Edit বাটনে ক্লিক করলে যে পেজ আসবে তা এবং নতুন পোষ্ট করার পেজের মত। তাই আমি আর সেগুলো নিয়ে লিখছি না। পোষ্ট করার বিস্তারিত নিয়ম এখান থেকে দেখে আসতে পারেন। এ পেজে একটা অতিরিক্ত যে অপশন আছে। সেটার কাজ নিচে দিলাম।
অতিরিক্ত অপশনটার নাম Page Attributes. এতে তিনটি অপশন আছে। Parent, Template এবং Order । Template অপশন তেমন গুরুত্বপূর্ন না।
ব্লগে সাধারনত পেজ গুলো মেনু আকারে দেখায়। অনেক সাইটে দেখা যায় এসব মেনুতে মাউস পয়েন্টার নিয়ে গেলে সাব মেনু দেখা যায়, যেগুলোতে ক্লিক করলে এর সাব পেজ গুলো চালু হয়। যেমন নিচের চিত্রে Blog Info যদি একটি পেজ হয় তাহলে, এর সাব পেজ হচ্ছে Random Post, Get Shortlink ইত্যাদি।

এধরনের সাব মেনু অর্থাৎ সাব পেজ Parent অপশনের মাধ্যমে তৈরি করা যায়। Parent থেকে আপনি নতুন পেজটি যে পেজের সাব পেজ হিসেবে তৈরি করতে চান সে পেজটি সিলেক্ট করে দিন। আর যদি (no parent) দেখিয়ে দেন তাহলে এটি একটি সতন্ত্র পেজ হবে।
আপনার ব্লগে যদি একের অধিক পেজ থাকে তাহলে Order অপশনের মাধ্যমে আপনার নতুন পেজটি কত নাম্বারে অর্থাৎ কয়টা পেজের পর দেখাবে তা সিলেক্ট করে দিতে পারেন। এর মান শূন্য রাখলেও অসুবিধা নেই।

আজকের মত এতটুকু। আমরা প্রায় ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর প্রধান কাজ গুলোর শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আশা করি আর এক থেকে দুটি পোষ্টের ভিতরে ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর সম্পূর্ন টিউটোরিয়াল সর্ম্পূন হয়ে যাবে। কোন সমস্যা হলে কমেন্ট করতে পারেন।
ধন্যবাদ।

ওয়ার্ডপ্রেস.কম টিউটোরিয়ালটি মোট ৯টি পোষ্ট এর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। আপনাদের সুবিধার্থে টিউটোরিয়ালের সব পেজের লিঙ্ক নিচে দেয়া হলঃ

সহজেই তৈরি করুন হাইকালার আইকন

আইকন, কার্সর, এনিমেটেড কার্সর, জিফ এনিমেশন ইত্যাদি তৈরির প্রক্রিয়া একই। তাই একটি তৈরি করতে শিখলে অন্যগুলো তৈরি করা একদম সহজ।
আইকন তৈরির জন্য দুটি সফটওয়্যার প্রয়োজন। একটি ফটোশপ এবং আরেকটি জিফ মুভি গিয়ার। এর সাইজ মাত্র ৯৪১.৭১ কেবি। ফটোসপ প্রায় সবার কাছে আছে। তাই এর লিঙ্ক দিলাম না। আর জিফ মুভি গিয়ার এখান থেকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন।
আইকন তৈরির জন্য প্রথমে ফটোশপে ১২৮ X ১২৮ সাইজের পেজ নিতে হবে। এতে আইকনের জন্য একটি ছবি আকতে হবে। এবার ছবিটি Icon128 নামে PNG ফরমেটে সেভ করুন। এবার ছবিটির সাইজ পরিবর্তক করে ৯৬ X ৯৬ করুন এবং Save As এর মাধ্যমে Icon96 নামে PNG ফরমেটে সেভ করুন। সাইজ পরিবর্তন করতে ফটোশপের image মেনু থেকে Image size… ক্লিক করুন এবং Width ও Height বক্সে ৯৬ লিখুন। একই পদ্ধতিতে ছবিটিকে আবার যথাক্রমে ৭২ X ৭২, ৬৪ X ৬৪, ৪৮ X ৪৮, ৩২ X ৩২, ২৪ X ২৪, ১৬ X ১৬ সাইজে পরিবর্তন করে যথাক্রমে Icon72, Icon64, Icon48, Icon32, Icon24, Icon16 নামে PNG ফরমেটে সেভ করুন। ফটোসপের কাজ শেষ। এবার কাজ করতে হবে জিফ মুভি গিয়ার দিয়ে। জিফ মুভি গিয়ার চালু করুন। ফটোসপে আকা ছবি গুলো একত্রে ওপেন করুন। এরপর File মেনু থেকে Save GIF Aimation As… ক্লিক করুন। Save as type থেকে Windows icon(.ico) সিলেক্ট করুন এবং পছন্দমত নাম দিয়ে সেভ করুন।
ব্যাস আইকন তৈরি হয়ে গেল। এবার জিফ মুভি গিয়ার সফটওয়্যারটির একটু বর্ননা দেই। এর সাইজ ছোট হলেও আনেক কাজের জিনিস।GIF Movie Gear সফটওয়্যারটি দিয়ে কার্সর, এনিমেটেড কার্সর, জিফ এনিমেশন, ফ্ল্যাস এনিমেশন, এভিআই এনিমেশন ইত্যাদিও তৈরি করা যায়। এর জন্য উপরের কাজ গুলোই করতে হবে। শুধু Save GIF animation as… ডায়লগবক্সে Save as type থেকে প্রয়োজনীয় ফরমেট সিলেক্ট করলেই হয়।
এর প্রত্যেক ফরমেটের কাজ নিচে দেয়া হলঃ

GIF animation/image(s) (.gif) – জিফ এনিমেশন তৈরির জন্য।
AVI animation (.avi) – এভিআই এনিমেশন তৈরির জন্য।
Macromedia Flash (SWF) animation (.swf) – ফ্ল্যাস এনিমেশন তৈরির জন্য।
BMP image(s) (.bmp) – বিটম্যাপ পিকচার তৈরির জন্য।
JPEG image(s) (.jpg) – জেপিইজি পিকচার তৈরির জন্য।
Photoshop PSD image (.psd) – ফটোশপের নিজস্ব ফরমেট তৈরির জন্য।
PNG image(s) (.png) – পিএনজি পিকচার তৈরির জন্য।
Windows cursor (.cur) – কার্সার তৈরির জন্য।
Windows icon (.ico) – আইকন তৈরির জন্য।
Windows animated cursor (.ani) – এনিমেটেড কার্সার তৈরির জন্য।