গুগল ট্রান্সলেট (Google Translate) কি এবং এর ব্যবহার

গুগল ট্রান্সলেট হচ্ছে গুগলের একটা অনলাইন সার্ভিস, যা দিয়ে এক ভাষার লেখাকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরিত করা হয়। একে অনুবাদ বলা যায় না, কারন এটি এক ভাষার কোন বাক্য কে অন্য ভাষায় সম্পূর্ন রূপে অনুবাদ করতে পারে না। এটি শুধু এক ভাষার বাক্যের প্রত্যেক শব্দকে অনুবাদ করে এর নিজের আয়ত্বে থাকা কিছু বাক্যের সাথে মিলিয়ে আপনাকে একটা করে বাক্য সাজিয়ে দেয়। এই বাক্যটি কোন গ্রামাটিকাল রুলে সাজানো থাকবে না, তবে আপনি মোটামুটি বুঝতে পারবেন যে আসলে ঐ বাক্যে কি বলা হচ্ছে। এটি প্রথম ভাষাকে শব্দান্তর করে এর বিশাল শব্দ ভান্ডার থেকে এবং বাক্য সাজায় এর সংগ্রহে থাকা উদাহরন থেকে। যে কোন বাক্যকে ভাষান্তরিত করার সময় এর নিজের সংগ্রহে থাকা উদাহরনের যে বাক্যের সাথে ঐ বাক্যটি মোটামুটি মিলে যায় তার আকারে এটি ট্রান্সলেট করা বাক্যটিকে সাজিয়ে দেয়। এ জন্য এতে কমন বাক্য গুলোর সঠিক ভাষান্তর পাওয়া গেলেও, একটু জটিল হলেই এটি সঠিক ভাবে ট্রান্সলেট করতে পারে না। তবে এটি মোটামুটি কাজ চালিয়ে যাবার মত ভাষান্তরিত করতে পারে। এটি ২০০৬ এর দিকে চালু হলেও এতে বাংলা ভাষা যুক্ত হয়েছে এই বছরে। তবে উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এটি ইন্ডিয়ান বাংলা হিসেবেই চালু হয়েছে। এটি বর্তমানে ৬০+ ভাষা সাপোর্ট করে। এর উন্নয়ন কাজ এখনো চলছে। আরো বিস্তারিত জানতে এখানে দেখতে পারেন। আশা করি গুগল ট্রান্সলেট সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা হয়েছে। এখন এটির ব্যবহার বিধি দেখা যাক।

ব্যবহার বিধিঃ

এর ব্যবহার বিধি পানির মত সহজ। তারপরও দেখিয়ে দিচ্ছি 🙂 প্রথমে গুগল ট্রান্সলেটর চালু করুন।
গুগল ট্রান্সলেটর এর ঠিকানা – translate.google.com
তাহলে নিচের মত একটি পেজ দেখতে পাবেন।

ক্রমিক নং অনুযায়ী মিলিয়ে পড়ুনঃ
1. এখানে আপনি কোন ভাষা থেকে ট্রান্সলেট করবেন তা দেখিয়ে দিন। এটি না দেখিয়ে দিলেও হয়। কারন আপনি লেখা ইনপুট দিলে এটি সংক্রিয় সে ভাষা সিলেক্ট করে নেয়।
2. এখানে আপনি কোন ভাষায় ট্রান্সলেট করবেন তা দেখিয়ে দিন। যেমনঃ বাংলার জন্য Bengali.
3. এখানে ক্লিক করলে আপনার দেয়া লেখা ট্রান্সলেট হবে এবং তা ৫নং বাক্সে দেখাবে।
4. এখানে যে বাক্যটি বা প্যারাটি ট্রান্সলেট করতে হবে তা লিখুন।
5. এখানে ট্রান্সলেট করা লেখা দেখা যাবে।

সুবিধা সমূহঃ

১. গুগল ট্রান্সলেট এ কোন শব্দের আল্টারনেট শব্দ অর্থাৎ একই ধরনের শব্দ দেখার সুবিধা আছে। এ জন্য ট্রান্সলেট হওয়া অংশে অর্থাৎ ৫নং অংশে ফলাফলের উপর মাউস পয়েন্টার রেখে বাম বাটন চাপলেই অল্টারনেট শব্দ গুলো দেখা যাবে এবং ঐ শব্দটি আদি ভাষার কোন শব্দের অর্থ তাও দেখাবে। যেমনঃ

২. উপরের চিত্রে একটা কালো বাক্সে দেখতে পাচ্ছেন, এতে ক্লিক করে আপনি ইংলিশ বাক্যটির উচ্চারনও শুনতে পারবেন :)।

৩. গুগল ট্রান্সলেট এর বড় সুবিধা হল এটি শুধু বাক্য বা প্যারা ট্রান্সলেট করতে পারে না, এটি সম্পূর্ন ওয়েব সাইটও ট্রান্সলেট করতে পারে। কোন সাইটকে ট্রান্সলেট করতে চাইলে ৪নং বাক্সে সে সাইটের ঠিকানাটি লিখুন এবং একটু অপেক্ষা করুন বা ৩নং বাটনটি অর্থাৎ Translate বাটনটি ক্লিক করুন। তাহলে দেখবেন ৫নং বক্সে একটি লিঙ্ক এসেছে, এতে ক্লিক করলেই আপনি ঐ সাইটের সম্পূর্ন ট্রান্সলেট দেখতে পাবেন।

৪. ফায়ারফক্সে গুগল ট্রান্সলেটরের জন্য একটি অ্যাড-অনও আছে। এর ঠিকানা – addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/google-translator-for-firefox/
এটি ইনস্টল করে এর Option থেকে বাংলা বা আপনি যে ভাষা চান তা সিলেক্ট করে দিন। তারপর ওয়েব সাইটের যে কোন লাইন সিলেক্ট করে রাইট ক্লিক করে ‘Translate selection with Google Translate’ এ ক্লিক করলেই ঐ সিলেক্ট করা বাক্যটির ট্রান্সলেট দেখতে পাবেন।

এগুলোই এর প্রধান সুবিধা। আমি গুগল ট্রান্সলেট সম্পর্কে যা জানি তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আমি মানুষ, তাই আমার ভুল হতেই পারে। তাই পোষ্টে কোন ভুল হলে তা কমেন্টে বলবেন। আজ এ পর্যন্তই। কোন সমস্যা হলে কমেন্টে বলবেন।
ধন্যবাদ।

অ্যাড দিস (Add This) – একটি অ্যাড-অন দিয়েই যে কোন পেজ যে কোন শেয়ারিং সাইটে শেয়ার করুন + ব্লগ বা যে কোন সাইটে দেয়ার জন্য শেয়ার বাটন

নেটে যখন কোন জিনিস ভাল লাগে তখন তা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করে। তবে দেখা যায় অনেক সময় বিভিন্ন সাইটে বা সব পেজে শেয়ার করার অপশন থাকে না। আবার আপনি যেখানে শেয়ার করতে চান হয়তো সে ফাংশনটি সেখানে দেয়া নেই। তখন হয়তো আপনাকে লিঙ্কটি কপি পেস্ট করে আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে হয়। আজ একটি সুন্দর অ্যাড-অন দেব যা ৩০০ এর উপরে শেয়ারিং সাইট সাপোর্ট করে। এর নাম অ্যাডদিস (Add This)। এটি এখানে থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। কোন পেজ বা সাইট আপনি শেয়ার করতে চাইলে অ্যাডদিস অ্যাড-অনটি চালু অবস্থায় শুধু ঐ পেজের উপর রাইট ক্লিক করে AddThis থেকে আপনি কোথায় শেয়ার করতে চান সেটিতে ক্লিক করুন। এতে ডিফল্ট হিসেবে সেসব সাইট থাকে তা আপনি Tools > AddThis > Options এ গিয়ে কমবেশী করতে পারবেন। অ্যাড-অনটি ডাউনলোড করলে সব শেয়ারিং সাইটের নাম জানতে পারবেন। এতে কিছু জ্ঞান আহরণ হবে।

আপনার সাইটে বা ব্লগে অ্যাডদিস এর শেয়ার বাটনও আপনি চাইলে যোগ করতে পারেন। এর জন্য কোন টাকা বা রেজিষ্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। শুধু অ্যাডদিস এর ওয়েব সাইটে গিয়ে আপনার ইচ্ছে মত বাটন তৈরি করে নিতে পারবেন। অ্যাডদিস এর ঠিকানা www.addthis.com । অ্যাডদিস এর শেয়ার বাটন ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস (.কম ও .অর্গ) সহ যেকোন সাইটে যোগ। করতে পারেন। শেয়ার বাটন যোগ করতে কোন সমস্যা হলে কমেন্টে বলবেন। আশা করি অ্যাড-অনটি কাজে লাগবে। ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন।

ইকোফোন (Echofon) – টুইটার ব্যবহারকারীদের জন্য ফায়ারফক্সের একটি জনপ্রিয় অ্যাড-অন

ফেসবুকের মত টুইটারও এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এটি আসলেই মজার একটি সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট। যারা ব্যবহার করেন তারা জানেন এটি ব্যবহার করতে কত মজা। ফেসবুকে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় What’s on your mind? আর টুইটারে জিজ্ঞাসা করা হয় What’s happening? অর্থাৎ কি ঘটছে? আপনি টুইটার দিয়ে আপনার আসে পাশে কি ঘটছে, আপনি কি করছেন, আপনার এখন কি ইচ্ছে হচ্ছে বা কি করতে ইচ্ছে হচ্ছে ইত্যাদি সার্বক্ষনিক আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। টুইটার যারা ব্যবহার করেন না তারা ব্যবহার করে দেখুন আশা করি ভাল লাগবে। আজ টুইটার ব্যবহার করার জন্য ফায়ারফক্সের জনপ্রিয় একটি অ্যাড-অন শেয়ার করব। এর নাম ইকোফোন (echofon) অ্যাড-অনটি এখানে ক্লিক করে সরাসরি ডাউনলোড করতে পারেন। এতে টুইটারের সব সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। নিচে এর সুবিধা গুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা হল।

এ অ্যাড-অনটি চালু করলে ফায়ারফক্সের ডানে নিচের দিকে ইকোফোনের চিহ্ন আসবে। চিহ্নতে ক্লিক করলে ইকোফোন উইন্ডো দেখতে পাবেন। উইন্ডোটি দেখতে নিচের মত।

এখানে আপনার নতুন পুরনো সব টুইট দেখতে পাবেন। নতুন টুইট এলে এটি আপনাকে নটিফাই উইন্ডোর মাধ্যমে নতুন টুইটটি দেখাবে। অ্যাড-অনটি থেকে যে কোন টুইট রিটুইট করতে পারবেন। এর জন্য যে টুইটটি রিটুইট করতে চান তার উপর মাউস পয়েন্টার এনে রাইট ক্লিক করে Retweet এ ক্লিক করুন। রিটুইট ও কমেন্ট এক সাথে করতে চাইলে যে টুইটের রিটুইট ও কমেন্ট একসাথে করতে চান তার উপর মাউস পয়েন্টার এনে রাইট ক্লিক করে Retweet with Comment এ ক্লিক করুন। এর উইন্ডো থেকে আপনার যে কোন টুইট ডিলিটও করতে পারবেন। এর জন্য আপনার টুইটের উপর রাইট ক্লিক করে Delete this tweet এ ক্লিক করুন। এর উইন্ডোতে কে কখন টুইট করেছে তাও দেখতে পারবেন। এর উইন্ডো থেকে কোন টুইটের রিপ্লে ও করতে পারবেন। কোন টুইটের রিপ্লে করতে সে টুইটের উপর মাউস পয়েন্ট নিয়ে যেতে হবে, তাহলে দুটি চিহ্ন আসবে সেখান থেকে তীর চিহ্নতে ক্লিক করে রিপ্লে পাঠাতে পারবেন।

এ অ্যাড-অনটি সয়ংক্রিয় টুইট আপডেট করে। আর এ অ্যাড-অনটি খুব সামান্য ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে। এটি দিয়ে আপনার ফেসবুকের স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করতে পরবেন। টুইটার ও ফেসবুকের স্ট্যাটাস একসাথে পরিবর্তন করার পদ্ধতি এখানে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন। অ্যাড-অনটি ডিফল্ট হিসেবে ১ মিনিট পরপর টুইট আপডেট করে। আপনি টুইট আপডেট টাইম সর্বোচ্চ ৫ মিনিট ঠিক করে দিতে পারবেন। এর জন্য ইকোফোন এর লোগোর উপর রাইট ক্লিক করে Preferences এ ক্লিক করুন। তারপর Get tweets বক্স থেকে Every 5 minutes এ ক্লিক করুন।

তবে এ সময় আরেকটি পদ্ধতিতে আপনি বাড়িয়ে নিতে পারেন। এর জন্য ফায়ার ফক্সের টাইটেল বক্সে লিখুন about:config এবং এন্টার দিয়ে I’ll be careful, I promise! বাটনে ক্লিক করুন। এবার Filter বক্সে লিখুন Extensions.twitternotifier.interval তাহলে নিচের দিকে একই রকম আরেকটি লেখা দেখতে পাবেন। সেখানে ডাবল ক্লিক করুন। তাহলে Enter integer value নামে একটি বক্স আসবে। সেখানে কতক্ষণ পর টুইট আপডেট করতে চান (যেমন 15) সেই সংখ্যাটি লিখে OK ক্লিক করুন।

এ অ্যাড-অন চালু থাকলে আপনার ফায়ারফক্সের অ্যাড্রেস বারে @ লিখে টুইটারের যে কারও ইউজার নেম লিখলে ইকোফোন সয়ংক্রিয় তার প্রোফাইলে নিয়ে যাবে। আশা করি টুইটার ব্যবহারকারীদের অ্যাড-অনটি কাজে লাগবে। পোষ্টটি ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন।

ফায়ার ফক্সের অ্যাড্রেস বার থেকে টুইট পাঠান

আমাদের দেশে অনেকেই এখন টুইটার ব্যবহার করছেন। টুইটার হল এমন একটি সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট যেখানে ফেসবুকের মত বিভিন্ন জিনিস শেয়ার করতে পারবেন। কিন্তু এতে মাত্র ১৪০ অক্ষর ব্যবহার করে যে কোন কিছু লিখতে হবে। এর ঠিকানা twitter.com। টুইট পাঠানোর জন্য সাধারণত তাদের সাইটে গিয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু ফায়ারফক্সের একটি সুন্দর অ্যাড-অন আছে যা দিয়ে ফায়ারফক্সের অ্যাড্রেস বার থেকে টুইট পাঠানো যায়। এর নাম টুইটার বার (Twitter Bar)। অ্যাড-অনটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। এটি ডাউনলোড করে ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করুন। তারপর নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করুন।
প্রথমে Tools থেকে Add-ons এ ক্লিক করুন। এবার Extensions ট্যাব থেকে TwitterBar এ ক্লিক করে Options বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর যে উইন্ডো আসবে সেখান থেকে Add Account বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে একটি ওয়েব পেজ আসবে সেখানে Username or Email: এর জায়গায় আপনার টুইটারের ইউজার নেম বা ইমেইল ঠিকানা দিন এবং Password: এর জায়গায় আপনার টুইটারের পাসওয়ার্ড দিয়ে Allow বাটনে ক্লিক করুন।

কাজ শেষ। এখন আপনি আপনার ফায়ার ফক্সের অ্যাড্রেস বার থেকে টুইট পাঠাতে পারবেন। এর জন্য অ্যাড্রেস বারে আপনার টুইটটি লিখুন এবং পাশে টুইটার চিহ্নতে ক্লিক করুন। এখানে বাংলা ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি কোন ঠিকানা লিখে টুইটার চিহ্নে ক্লিক করলে এটি স্বয়ংক্রিয় ঠিকানাটিকে ছোট করে তা টুইট হিসেবে পাঠিয়ে দিবে। আপনি একাধিক টুইটার একাউন্টও ব্যবহার করতে পারবেন। তখন উপরের নিয়মে সব একাউন্ট যুক্ত করতে হবে এবং টুইট পাঠানোর সময় টুইটের শেষে @User name অর্থাৎ @ দিয়ে আপনার কোন একাউন্টে টুইট পাঠাতে চান যে একাউন্টের ইউজার নেম লিখুন। আশা করি অ্যাড-অনটি কাজে লাগবে। কোন সমস্যা হলে কমেন্ট করবেন।

গ্রামীণফোনের ইমেজ অপটিমাইজেশন (Image Optimize) অর্থাৎ ইমেজের কোয়ালিটি লো হওয়া সমস্যার সমাধান

গ্রামীণফোন লিমিট ইউজারদের জন্য Image Optimize সুবিধা চালু করেছে। এতে ইমেজের কোয়ালিটি কমে যায় এবং ইমেজ খুব দ্রুত লোড হয়। এতে ব্যান্ডউইথ কম খরচ হলেও অনেকের কাছে এটি বিরক্তির কারন। যারা লিমিট ইউজার তাদের এটি উপকার করলেও অনেকে বিশেষ করে আনলিমিটেড ইউজারদের এটি প্রয়োজন হয়না। যারা সুবিধাটি বন্ধ করতে চান তারা নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন।

প্রথমে এখান থেকে মডিফাই হেডারস (Modify Headers) অ্যাড-অনটি ডাউনলোড করুন এবং ফায়ার ফক্স রিস্টার্ট করুন।

এবার এখান থেকে “solution.xml” নামে ফাইলটি ডাউনলোড করুন এবং আনজিপ করে রাখুন। এটি পরে কাজে লাগবে।

এবার Tools মেনু থেকে Modify Headers এ ক্লিক করুন। তাহলে Modify Headers নামে একটি ডায়লগ বক্স আসবে। সেখান থেকে Configuration বাটনে ক্লিক করুন। তারপর General বিভাগ থেকে Always On: Enable Modify Headers when the window/tab is closed. নামে চেক বক্সটি টিক দিন। এবার Export/Import বিভাগ থেকে Import রেডিও বাটনে ক্লিক করুন এবং Browse… বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড করা “solution.xml” ফাইলটি দেখিয়ে দিয়ে Next বাটনে পরপর দুই বার ক্লিক করুন। এরপর ডানদিক থেকে Enable All বাটনে ক্লিক করুন এবং ডানে কোণাতে X চিহ্নতে ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।

এবার Ctrl + SHift + Delete একসাথে চাপুন। তাহলে Clear Recent History নামে একটি উইন্ডো আসবে। এখানে ^ এর উল্টো যে চিহ্নটি আছে তাতে ক্লিক করুন। এবার সব টিক চিহ্ন উঠিয়ে শুধু Cache চেক বক্সে টিক দিন এবং Clear Now বাটনে ক্লিক করুন।

কাজ শেষ। আপনি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাইলে নতুন যে অ্যাড-অনটি ডাউনলোড করেছেন তা Tools > Add-ons মেনু থেকে Disable করে দিলেই হবে। কোন সমস্য হলে কমেন্ট করবেন।

ফায়ারফক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অ্যাড-অনস – ০২

ফায়ারফক্সের কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাড-অনের বর্ণনা নিচে দিলাম। দেখুন কাজে লাগে কিনা।

ইয়াহু! মেইল ওয়াচার (Yahoo! Mail Watcher) – এটি একটি প্রয়োজনীয় অ্যাড-অন। এ অ্যাড-অনটি চালু রাখলে নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার ইয়াহু মেইল চেক করবে এবং নতুন মেইল এলে আপনাকে জানাবে। ফলে আপনাকে কষ্ট করে ইয়াহুতে ঢুকে মেইল চেক করতে হবে না। এটি দিয়ে সয়ংক্রিয় মেইল চেক করতে অবশ্যই আপনার ইয়াহু মেইলে লগঅন থাকতে হবে। এটি এখান থেকে যোগ করতে পারবেন।

কালারফুল ট্যাবস (Colorful tabs) – এটি প্রয়োজনীয় অ্যাড-অন না। এটি আপনার ফায়ারফক্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এটি চালু রাখলে আপনার ট্যাব গুলো একেকটা একেক রং হয়ে যাবে। আপনি নিজেও ট্যাব এর রং নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। এটি এখান থেকে যোগ করতে পারবেন।

ইমেজ ব্লক (Image block) – ওয়েব পেজে সবচেয়ে বেশী নেট খরচ হয় ইমেজ লোড হতে। আপনি চাইল এ অ্যাড-অনটি দিয়ে ইমেজ লোড ব্লক করতে পারবেন। এ অ্যাড-অনটি এখান থেকে যোগ করতে পারেন।

কী স্ক্র্যাম্বলার (Key Scrambler) – হ্যাকাররা বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক করার চেষ্টা করে। অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারে আক্রমন করে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি কী-বোর্ডের কোন কি চাপেন তা তার কম্পিউটার থেকে দেখতে পারেন। আপনি “কী স্ক্র্যাম্বলার” অ্যাড-অনটি ব্যবহার করে হ্যাকার থেকে আপনার পাসওয়ার্ড রক্ষা করতে পারেন। এটি চালু রাখলে আপনি কোন কী চাপলে হ্যাকার তা না দেখে অন্য একটি কী দেখতে পাবে। এ অ্যাড-অনটি এখান থেকে যোগ করতে পারবেন।

স্ক্রাইব ফায়ার (ScribeFire) – এটি একটি সুন্দর এবং প্রয়োজনীয় অড-অন। আমরা বিভিন্ন ব্লগের পোষ্ট পড়ার সময় কোন পোষ্ট ভাল লাগলে তা নিজের ব্লগে দেই। এসময় এ অ্যাড-অনটি আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। এটি দিয়ে ঐ ব্লগে থাকা অবস্থায় আপনি ঐ পোস্টটি আপনার ব্লগে পোষ্ট করতে পারবেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। কোন পোষ্ট আপনার ব্লগে প্রকাশ করতে ঐ পেজের উপর রাইট ক্লিক করে ScribeFire থেকে blog this page এ ক্লিক করুন। তারপর আপনার ব্লগের নাম এবং পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তারপর নতুন যে উইন্ডোটি আসবে সেখানে পোস্টটি কপি-পেস্ট করে দিন এবং প্রয়োজনীয় লেখা লিখে Publish to “আপনার ব্লগের নাম” এ ক্লিক করুন। এটি ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস সহ আরও কিছু জনপ্রিয় ব্লগ সাইট সাপোর্ট করে।

আশা করি অ্যাড-অন গুলো কাজে লাগবে। কোন সমস্যা হলে কমেন্ট করবেন।

ফায়ারফক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অ্যাড-অনস – ১

ফায়ারফক্সের কিছু প্রয়োজনীয় অড-অনস এর বর্ণনা আজ দিচ্ছি। দেখুন আপনার কাজে লাগে কিনা।
১. অ্যাড ব্লক (Adblock) – এটি ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞাপন ব্লক করার জন্য। আমার মত বেশির ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী লিমিট ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট ব্যবহার করি। তাই আমাদের হিসাব করে নেটে কাজ করতে হয়। আর বিভিন্ন সাইটে যে সব বিজ্ঞাপন থাকে তা আমাদের তেমন একটা লাগে না। কিন্তু সেগুলো ওয়েব পেজের সাথে ডাউনলোড হয়ে – এক. ওয়েব সাইট চালু হওয়ার গতি ধির করে দেয়, দুই. এতে আমাদের ব্যান্ডউইথ অকারণে খরচ হয়। তাই এ অড-অনটি অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। এ অড-অনটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। এটি ইনস্টল করে দুটি ফিল্টার সিলেক্ট করে দিতে হয় তা না হলে এটি কাজ করবে না। এর জন্য এটি ইনস্টল করে ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করুন। এবার Ctrl + Shift + E চাপুন। তাহলে “Adblock plus preferences” নামে একটি উইন্ডো আসবে। এখানে Filters মেনু থেকে Add filter subscription এ ক্লিক করুন। এবার লিস্ট থেকে EasyList (English) সিলেক্ট করে Add subscription বাটনে ক্লিক করুন। আবার Filters মেনু থেকে Add filter subscription এ ক্লিক করে লিস্ট থেকে Fanboy’s List (English) সিলেক্ট করে Add subscription বাটনে ক্লিক করুন। তারপর এটি সয়ংক্রিয় ফিল্টার আপডেট করে নিবে।

২. ফ্ল্যাসব্লক (Flashblock) – এর নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি ফ্ল্যাস কনটেন্ট ব্লক করে দেয়। ওয়েব সাইটে আপনি যদি ফ্ল্যাস দিয়ে কোন কাজ না করেন তাহলে এটি দিয়ে ফ্ল্যাস কনটেন্ট ব্লক করে আপনার ওয়েব পেজ লোডের গতি বাড়াতে এবং ব্যান্ডউইথ খরচ বাচাতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৩. প্রোকন ল্যাট (ProCon Latte) – ধরুন নেট ব্রাউজিং করছেন হটাৎ কোন পর্নো সাইট বা পর্নো কনটেন্ট সামনে চালু হল। এমন সময় যদি ছোট কেউ বা মুরব্বি ধরনের কেউ সামনে থাকে তখন কি অবস্থা হতে পারে তা তো বুঝতে পারছেন। এ ছাড়া পর্নো সাইটগুলোতে হ্যাকাররা ওতপেতে থাকে এবং সুযোগ মত কম্পিউটারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এসব পর্নো সাইট, কনটেন্ট এবং অনিরাপদ সাইট ব্লক করার জন্য প্রোকন ল্যাট অ্যাড-অনটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। এটি অনেক সময় ভাল সাইটকেও ব্লক করে। তখন পেজের উপরে Option নামে একটি বাটন আসে। সেখানে ক্লিক করে Continue ক্লিক করে Add current site বাটনে ক্লিক করে Reload ক্লিক করলেই সে সাইটটি আর ব্লক করবে না। আপনার বাসায় যদি অন্য কেউ বা ছোট কেউ নেট ইউজ করে তখন এটি দিয়ে রাখতে পারেন। এতে পাসওয়ার্ড দেয়ারও সুবিধা আছে।

৪. বাঙ্গালী বাংলাদেশ ডিকশনারি (Bangali Bangladesh Dictionary) – এটি বাংলা ডিকশনারি। বাংলা বানানে কোন ভুল হলে তা এটি ধরিয়ে দেবে। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। বানান সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আসলেই দারুন একটি অড-অন। অনেক সময় তাড়াতাড়ি লেখার সময় বাংলা বানানে ভুল হয় তখন এটি আপনাকে বানান ঠিক করতে সাহায্য করবে।

৫. ডাউনলোড স্ট্যাটাস বার (Download Statusbar) – এটি তেমন প্রয়োজনীয় কোন অড-অন না। আপনি কোন জিনিস ডাউনলোড করলে তা সাধারনত অন্য আরেকটি উইন্ডোতে দেখায়। কিন্তু এটি ইনস্টল করলে ডাউনলোড করা ফাইল গুলোর নাম ফায়ারফক্সের নিচে দেখাবে। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৬. রিড ইট লেটার (Read it later) – ধরুন ব্লগ পড়ছেন। একটি সুন্দর ব্লগ পেলেন কিন্তু তখন পড়ার সময় নেই। তখন একে পরে পড়ার জন্য এ অড-অনটি ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার পেজটি পড়ে পড়ার জন্য রেখে দিতে পারেন। কোন সাইট পড়ে পড়ার জন্য রেখে দিতে চাইলে শুধু নিচের চিহ্নটিতে ক্লিক করলেই হবে।

আপনি যদি কোন পেজ অফলাইনে পড়ার জন্য রেখে দিতে চান তাহলে প্রথমে উপরের চিহ্নটিতে ক্লিক করে রিড ইট লেটারের চিহ্নতে ক্লিক করে নিচের চিহ্নতে ক্লিক করতে হবে।

অড-অনটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। কোন বড় লেখা বা ব্লগের লেখা অবসর সময়ে পড়ার জন্য এ অড-অনের কোন বিকল্প নেই।

৭. ফেসবুক চ্যাট বার (Facebook chat bar) – এটি তেমন প্রয়োজনীয় কোন অড-অন না। এটি আসলে ফেসবুকে আবেগ চিহ্ন দেয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এটি এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৮. এফইবিই (FEBE) – এর পূর্ণরূপ হল Firefox Environment Backup Extension. অর্থাৎ এটি দিয়ে ফায়ারফক্সের সব অড-অন, সেটিংস, বুকমার্ক, পাসওয়ার্ড ইত্যাদির ব্যাকআপ রাখা যাবে। এটি এখান থেকে ডাউন লোড করতে পারেন। এটি দিয়ে ব্যাকআপ রাখলে নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করার পরে আর কষ্ট করে আপনাকে আবার অড-অন গুলো ডাউনলোড করতে হবে না। ব্যাকআপ থেকে ইনস্টল করতে পারবেন।
আজকে এ পর্যন্তই। আশা করি অড-অন গুলো কাজে লাগবে।