গেমের সর্বোচ্চ গতি পেতে ব্যবহার করুন গেম বুষ্টার (লিমিট সময়ের জন্য ডাউনলোড একদম ফ্রি)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সবাই আশা করি ভাল আছেন। আজ গেম সম্পর্কিত একটি সফট নিয়ে কথা বলব। শুরু করা যাক।

আপনি নরমাল ব্যবহারকারী হন বা অ্যাবনরমাল ( ;)) ব্যবহারকারী হন কম-বেশী গেম খেলেন না এরকম ব্যক্তি খুব কমই আছে। কিন্তু আমাদের সামর্থ না থাকার কারনে হয়ত আমরা গেমিং পিসি কিনতে পারি না। তবে মাঝারি মানের পিসি গুলোতে বর্তমানে মোটামুটি হালকা পাতলা গেম খেলার মত গ্রাফিক্স দেয়া থাকে। হার্ড কোর গেম না চললেও মোটামুটি কম রিকোয়ারমেন্টের গেম সেগুলো অনেক কষ্টে চালাতে পারে। এরকম ব্যবহারকরীদের জন্যই মূলত তৈরি হয়েছে গেম বুষ্টার (Game Booster) সফটটি। যা এই লো পারফরমেন্সের পিসির পারফরমেন্স গেম খেলার সময় আরো বাড়িয়ে দেবে। তবে যাদের গেমের জন্য আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড আছে বা গেমিং পিসি আছে তারাও তাদের গেমের পারফর্মেন্স আরো বাড়াতে পারেন এই সফট দিয়ে।

এই সফটটি তৈরি করেছে IObit সফট কোম্পানি। আমার যতটুকু মনে আছে তারা এটির প্রথম ভার্সন ফ্রিতে ছেড়ে দিয়েছিল। ২য় ভার্সনে মূল্য যোগ করেছে। আবার কি কারনে ৩য় ভার্সনে গেম বুস্টার আবার ফ্রি করে দিয়েছে। আর এ ফ্রি এ মাসের (জুন ২০১২) এর পর আর থাকছে না। তাই আপনার ফ্রি কপিটি আজই সংগ্রহ করবেন না কেন!😉

ডাউনলোড করার আগে এটির ব্যবহার, কিভাবে এবং কেমনে কাজ করে তা দেখা যাক।

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিঙ্ক একবারে পোষ্টের নিচে দিয়েছি। কি আছে এতে তা না জেনে কেন শুধু শুধু ডাউনলোড করে ব্যান্ডউইথ নষ্ট করবেন😉

গেম বুষ্টার সফটটা ডাউনলোড করে ইনস্টল করলে ডেস্কটপে নিচে মত দুটো সর্টকাট তৈরি হবেঃ

এখান থেকে Game booster 3 লেখা সর্টকাট দিয়ে সফটটি চালু করলে নিচের উইন্ডোটি আসবে। এটি এর প্রধান উইন্ডো বলা যায়। তবে এটি আসলে এ সফটটের GameBox উইন্ডো। এ উইন্ডোর কাজ দেখা যাক।

চিত্রের নাম্বারের সাথে বিভিন্ন অংশের কাজ মিলিয়ে পড়ুনঃ

1. আপনার পিসির গেম গুলো Add+ বাটন দিয়ে GameBox এ যুক্ত করতে পারবেন। ফলে এখান থেকেই সব গেম চালু করতে পারবেন। সব গেমের সর্টকাট একসাথে রাখা আরকি! Add+ এ ক্লিক করে আপনার গেমটির .exe (যে ফাইলটি দিয়ে সাধারনত গেম চালু করা হয়) ফাইল দেখিয়ে দিলেই এখানে গেমের সর্টকাটটি চলে আসবে।

2. গেমের সর্টকাট যোগ করে যে গেম খেলবেন তার সর্টকাট সিলেক্ট করে Boost & Launch এ ক্লিক করলেই গেম বুষ্টার এক্টিভ হবে এবং একই সাথে গেমটি চালু হবে।

3. আপনি Switch to Boost এ ক্লিক করে সরাসরি বুষ্ট বাটন উইন্ডোতে যেতে পারবেন। বুষ্ট বাটন উইন্ডোতে Start Boost লেখা নিচের মত একটি বড় বাটন দেখতে পাবেন। এতে ক্লিক করলে গেম বুষ্টার এক্টিভ হবে। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে আপনি গেম বুষ্টার এক্টিভ করতে পারবেন তবে গেম নিজ থেকে চালু হবে না, আপনাকে মাই কম্পিউটারে গিয়ে বা সর্টকাট দিয়ে গেম নিজ থেকে চালু করতে হবে।

গেম বুষ্টারের মেইন উইন্ডোর একবারে নিচের দিকে আপনার CPU, Mainboard (Motherboard), Videocard, Harddisk ইত্যাদির তাপমাত্রা এবং Fan Speed দেখতে পাবেন।

এবার গেম বুষ্টারের উইন্ডোর উপরের মেনু গুলোর কাজ দেখা যাকঃ (চিত্রের সাথে নম্বার মিলিয়ে পড়ুন)

4. GameBox এ ক্লিক করলে উপরের প্রথম/প্রধান উইন্ডোটি চালু হবে। যার কাজ উপরেই দেখানো হয়েছে।

5. Diagnose এ ক্লিক করলে নিচের মত একটি উইন্ডো আসবে। এটি দিয়ে আপনার পিসির সব তথ্য বের করা এবং এক্সপোর্ট করা যাবে। এ এক্সপোর্ট করা ফাইল বিভিন্ন গেমিং ব্লগ/ফোরামে গেমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে।

Analyze বাটনে ক্লিক করলে পিসির সব তথ্য গেম বুষ্টার সংগ্রহ করে নিচের চিত্রের মত দেখাবে। Copy বাটনে ক্লিক করে এ লেখা গুলো কপি করতে পারবেন। Export বাটন দিয়ে লেখা গুলোকে টেক্সট (.txt) ফাইল হিসেবে সেভ করতে পারবেন। Upload বাটনে ক্লিক করলে ওয়েব ব্রাউজারে IObit এর একটি পেজ চালু হবে যেখানে বলা হয়েছে, Analyze করে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা কোথায় কাজে লাগবে; কিভাবে, কোথায় এটি আপলোড করতে হবে এবং এ তথ্য গুলোর কোনটা কি নির্দেশ করছে তা।

IObit এর নিজস্ব গেমিং ফোরামের লিঙ্কঃ www.g-forums.net

এখানে ফ্রি সাপোর্ট পাবেন যে কোন গেমিং প্রবলেমের।

6. Tools বাটনে ক্লিক করলে তিনটি অপশন পাওয়া যাবে। সেগুলোর কাজ নিচে দিয়েছি।

7. FPS বাটনে ক্লিক করলে নিচের উইন্ডোটি দেখতে পাবন। যা থেকে আপনি গেম খেলার সময় তিনটি সুবিধা পাবেন। সেগুলো হলঃ

  • FPS: গেমের FPS (Frame Per Second) কত তা দেখতে পাবেন।
  • Video: গেম খেলার সময় গেম কে ভিডিও হিসেবে ক্যাপচার করতে পারবেন।
  • Screenshot: গেম খেলার সময় গেমের স্ক্রিনসট নিতে পারবেন।

FPS বাটনে ক্লিক করলে নিচের মত উইন্ডোটি আসবে। দেখতেই পাচ্ছেন এ উইন্ডোটি FPS, Video এবং Screenshot এ তিন অংশে বিভক্ত। প্রত্যেক অংশে আলাদা হট-কি (কিবোর্ডে যে বা যেসব কি দিয়ে এক প্রোগ্রাম চালু অবস্থায় অন্য প্রোগ্রামের কাজ করা যায়) ঠিক করে দেয়ার অপশন আছে। গেম খেলার সময় যে কাজটি করতে চান তার হট-কি চাপ দিলেই সে কাজটি চালু হবে। আবার আগের হট-কি চাপ দিলে কাজটি বন্ধ হবে।

ডিফল্টি হিসেবে FPS দেখার জন্য Ctrl+Alt+F, Video ক্যাপচার করার জন্য Ctrl+Alt+Y এবং Screenshot নেয়ার জন্য Ctrl+Alt+Y হট-কি নির্বাচন করে দেয়া আছে।

11. উপরের ফাংশন গুলো চালু করার জন্য প্রথমে এ বাটনে ক্লিক করে বাটনটি ON করতে হবে। উপরের চিত্রে বাটনটি চালু অবস্থার চিত্র দেয়া হয়েছে।

12. এখানে Change বাটন দিয়ে Video এবং Screenshot কোথায় সংরক্ষন করবেন তা দেখিয়ে দিতে পারবেন। View দিয়ে যে ফোল্ডার বর্তমানে সংরক্ষনের জন্য সিলেক্ট করা আছে সে ফোল্ডারটি ওপেন করতে পারবেন।

8. Tweaks বাটনটি চাপ দিলে নিচের উইন্ডোটি আসবে। Tweak বলতে এমন কিছু সেটিংস বুঝায় যা দিয়ে উইন্ডোজকে কাষ্টমাইজ করা যায়, এবং কিছু Tweak আছে যে গুলো দিয়ে পিসির স্পিডও বাড়ানো যায়। এ Tweaks উইন্ডোতে গেমের গতি বাড়তে পারে এরকম কিছু টুইক্স দেয়া আছে। Optimize বাটনে ক্লিক করে এসব টুইক্স সক্রিয় করতে পারবেন।

কিছু টুইক্স আছে যা পরিবর্তন করলে অন্য প্রোগ্রামের সমস্যা হতে পারে। টুইক্স সক্রিয় করার পর কোন সফটে সমস্যা দেখা দিলে Restore বাটনে ক্লিক করে Restore to Windows Default এ ক্লিক করে সেটিংস আগের মত করতে পারবেন। তবে এ ধরনের সফটওয়্যার জনিত সমস্যা খুবই কম ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

9. Defrag এ ক্লিক করলে নিচের উইন্ডোজটি আসবে। ডিফ্র্যাগমেন্ট কে সহজ ভাবে বুঝাতে গেলে বলা যায় হার্ডডিস্কের সকল ফাইলকে সাজিয়ে রাখাই হচ্ছে ডিফ্র্যাগমেন্ট। কাজ করার সময় হার্ডডিস্ক ফাইলকে কাজের সুবিধার জন্য হার্ডডিস্কের অন্য যায়গাতে ট্রান্সফার করে। কিন্তু কাজ শেষ হলে তা আবার আগের যায়গাতে ফিরিয়ে দেয় না। এভাবে কাজ করতে করতে ফাইল গুলো এলোমেলো হয়ে যায়। ফলে হার্ডডিস্ক ফাইল সহজে খুজে পায় না এবং যার ফলে সিস্টেমের গতি কমে যায়। তাই ডিফ্র্যাগমেন্ট করতে হয় ফাইল গুলো পুনরায় সাজিয়ে রাখার জন্য। পিসির গতি ঠিক রাখার জন্য মাসে একবার ডিফ্র্যাগমেন্ট করা উত্তম।

গেম বুষ্টারের Defrag অংশটি দিয়েও ডিফ্র্যাগমেন্টের কাজ করা যাবে। তবে গেম বুষ্টার দিয়ে আপনি নির্দিষ্ট করে শুধু কোন গেমের ফাইল গুলোকে ডিফ্র্যাগমেন্ট করতে পারবেন। কারন সম্পূর্ন হার্ডডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট করতে অনেক সময় লাগবে। তার চেয়ে গেমের ফাইল গুলো শুধু ডিফ্র্যাগমেন্ট করলে সময় কম খরচ হবে। ডিফ্র্যাগমেন্ট করতে Add+ বাটনে ক্লিক করে গেমের .exe (যে ফাইলটি দিয়ে সাধারনত গেম চালু করা হয়) ফাইলটি দেখিয়ে দিন। তাহলে তার সর্টকাট উইন্ডোটিতে চলে আসবে। এবার গেমটি সিলেক্ট করে Defrag এ ক্লিক করুন।

10. Drivers বাটনে ক্লিক করলে নিচের উইন্ডোটি আসবে। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি আপনার পিসির গেমের সাথে সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যারের (সাধারনত ভিডিও, অডিও ইত্যাদি কার্ডের) ড্রাইভার চেক করে দেখবে, যে নতুন কোন ড্রাইভার বের হয়েছে কিনা। নতুন ড্রাইভার থাকলে তা উইন্ডোটিতে দেখাবে। Rescan দিয়ে ড্রাইভার স্ক্যান এবং Download দিয়ে নতুন ড্রাইভার থাকলে তা ডাউনলোড করা যাবে।

মোটামুটি কাজ এগুলোই। শুরুতেই দেখেছেন ডেস্কটপে ২টি সর্টকাট আসে। প্রথমটির কাজ তো দেখলেন। পরেরটি অর্থাৎ Switch to Gaming Mode এ ক্লিক করলে সরাসরি গেম বুষ্টার এক্টিভ হবে এবং তা মিনিমাইজ হয়ে সিস্টেম ট্রে (উইন্ডোজের যেখানে সময় দেখায় তার  বাম পাশে আইকনের যায়গাটিকে বলা হয় সিস্টেম ট্রে) তে চলে যাবে।

এত সব সুবিধা ফ্রিতে পেয়েও ছেড়ে দিবেন! আজই আপনার কপি ডাউনলোড করুন। আবার বলছি এর ফ্রি ডাউনলোডের মেয়াদ এ মাসের (জুন ২০১২) ৩০ তারিখ পর্যন্ত।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ www.iobit.com/gamebooster.html

আমি উপরে গেম বুষ্টার ৩.৫ বেটা সম্পর্কে বর্ননা করেছি। আমি এ ভার্সনটা ব্যবহার করেছি এবং বেটা ভার্সনটাই ডাউনলোড করার জন্য Recommend করছি।

আজ এ পর্যন্তই। কোন সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে বলবেন।

ধন্যবাদ।

কিছু বলে যান

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s